জল্পনায় ইতি! সদস্যপদ নবীকরণ নিয়ে মুখ খুললেন দীপ্সিতা ধর, স্পষ্ট বার্তা সিপিএম নেত্রীর

সদস্যপদ নবীকরণ হয়নি—এই জল্পনা উড়িয়ে দিলেন দীপ্সিতা ধর। দিল্লি ইউনিটে নিয়ম মেনেই নবীকরণ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানালেন সিপিএম নেত্রী।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

সিপিএমের অন্দরে চলা জল্পনা ও রাজনৈতিক গুঞ্জনের মাঝেই অবশেষে নীরবতা ভাঙলেন প্রাক্তন এসএফআই নেত্রী দীপ্সিতা ধর। তাঁর প্রাথমিক সদস্যপদ নবীকরণ হয়নি—এমন খবর ঘিরে যখন দলীয় মহলে নানা প্রশ্ন উঠছিল, তখনই স্পষ্ট ঘোষণা করে বিতর্কে ইতি টানলেন তিনি। দীপ্সিতার দাবি, নিয়ম মেনেই তিনি সদস্যপদ নবীকরণ করেছেন এবং এই নিয়ে ছড়ানো জল্পনা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।

সাম্প্রতিক সময়ে প্রাক্তন ছাত্রনেতা প্রতীক-উর রহমানের দলবদল ঘিরে সিপিএমের অভ্যন্তরীণ আলোচনা তুঙ্গে। সেই আবহেই দীপ্সিতাকে নিয়ে নতুন গুঞ্জন ছড়ায়—তিনি নাকি দলের সক্রিয় সদস্যপদ আর নবীকরণ করেননি। রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি দ্রুত আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে।

কী বললেন দীপ্সিতা ধর?

সমস্ত জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে দীপ্সিতা জানান, “পার্টির সদস্যপদ রিনিউ করেছি। ভিত্তিহীন জল্পনা ছড়ানো বন্ধ হওয়া উচিত।”
তিনি ব্যাখ্যা করেন, তাঁর সদস্যপদ পশ্চিমবঙ্গে নয়, দিল্লি ইউনিটে নিবন্ধিত। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী থাকাকালীন সেই ইউনিটেই সদস্যপদ নেওয়া হয়েছিল এবং সেখানেই নিয়ম অনুযায়ী নবীকরণ সম্পন্ন হয়েছে।

সদস্যপদ নবীকরণ নিয়ে নিয়ম কী?

দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী প্রতি বছর ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সদস্যপদ নবীকরণের সময়সীমা থাকে। সাধারণ সদস্যদের ক্ষেত্রে জানুয়ারির মধ্যেই প্রক্রিয়া শেষ হয়, আর পার্টিকেন্দ্রের সদস্যদের নবীকরণ সাধারণত ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে সম্পন্ন হয়।
এই প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত তাঁর নবীকরণ হয়নি—এমন খবর ছড়াতেই জল্পনা বাড়ে।

বিদেশে যাচ্ছেন? জল্পনা খারিজ

আরও একটি গুঞ্জন ছিল—সদস্যপদ নবীকরণ করলেও তিনি নাকি সক্রিয় রাজনীতি ছেড়ে বিদেশে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণায় যোগ দেবেন। সেই সম্ভাবনাও নস্যাৎ করেছেন দীপ্সিতা। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, আপাতত দেশ ছাড়ার কোনও পরিকল্পনা নেই এবং রাজনীতির সঙ্গেই যুক্ত থাকবেন।

‘বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে’—অভিযোগ নেত্রীর

দীপ্সিতার অভিযোগ, বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাঁর দাবি, তরুণ প্রজন্মকে বিভ্রান্ত করতেই বিজেপি ও তৃণমূলের তরফে ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
একই সঙ্গে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, সদস্যপদ নবীকরণের মতো দলীয় অভ্যন্তরীণ বিষয় সংবাদমাধ্যমে কীভাবে প্রকাশ্যে এল।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই বিতর্ক শুধু প্রশাসনিক বিষয় নয়—বরং সিপিএমের অভ্যন্তরীণ সমীকরণ ও সংগঠনগত পরিস্থিতিকেও সামনে এনে দিয়েছে। ফলে বিষয়টি আপাতত থামলেও দলীয় রাজনীতিতে এর প্রভাব কতদূর গড়ায়, সেটাই এখন দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

সদ্য প্রকাশিত

এই ক্যাটেগরির আরও খবর