আরজি কর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় লাগাতার এক মাসেরও বেশি সময় ধরে রাস্তায় প্রতিবাদ করেছেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। অবশেষে তাঁদের সিংহভাগ দাবি রাজ্য সরকারের তরফে মেনে নেওয়া হলে অবস্থান বিক্ষোভ তুলে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছেন তাঁরা। এবার জুনিয়র চিকিৎসকদের আন্দোলন নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দা। তাঁর দাবি, অভয়ার বিচার চেয়ে মোটেই পথে নামেননি জুনিয়র চিকিৎসকরা, বরং তাঁরা আন্দোলন করেছিলেন নিজেদের স্বার্থপূরণ করতে!
বিগত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের চারতলার সেমিনার হলে চেস্ট মেডিসিন বিভাগের এক তরুণী পড়ুয়া চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়। ময়নাতদন্তের পর জানা যায়, ধর্ষণ করে তাঁকে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার পর উত্তাল হয় গোটা রাজ্য। টানা ৪২ দিন ধরে কর্মবিরতি পালন করেন জুনিয়র চিকিৎসকেরা। শেষমেষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপে কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেন তাঁরা। উল্টোদিকে, রাজ্য সরকার কার্যত জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবির সামনে মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়।
জুনিয়র চিকিৎসকদের দাবি মেনে কলকাতা পুলিশ কমিশনার বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় ডিসি নর্থ অভিষেক গুপ্তা-সহ স্বাস্থ্য ভবনের দুই অধিকর্তাকে। পাশাপাশি, হাসপাতালগুলির উন্নয়নের জন্য ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করে রাজ্য সরকার। এছাড়াও জুনিয়র চিকিৎসকদের আলাদা ১০টি দাবি মেনে নেয় রাজ্য।
বিগত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অরাজনৈতিক আন্দোলনের সাক্ষী রাজ্যবাসী। জুনিয়র চিকিৎসকদের একটাই বক্তব্য ছিল, কোনও রাজনৈতিক দল তাঁদের এই আন্দোলনে প্রবেশ করতে পারবে না। যদিও বিজেপি, সিপিআইএমের মতো দলগুলো জুনিয়র চিকিৎসকদের এই আন্দোলনকে সমর্থন জানায় এবং তাঁরাও সমান্তরালভাবে আলাদা করে প্রতিবাদ জানাতে থাকে।
বিগত বহু বছরে এত স্বতঃস্ফূর্ত নাগরিক প্রতিবাদ এ রাজ্যের মানুষ দেখেনি বলেই স্বীকার করে নিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও রাজ্য সরকার দাবি মেনে নেওয়ার পরেই জুনিয়র চিকিৎসকরা আন্দোলন ছেড়ে দিলেন কেন? তা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন অশোক দিন্দা। সেই কারণে তাঁর মনে হচ্ছে, অভয়ার বিচারের দাবিতে নয় নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতেই এই আন্দোলন করেছিল জুনিয়র চিকিৎসকেরা।



