শুক্রবার দুপুরে আচমকাই বিধানসভায় হাজির প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। কিন্তু, একবারও গেলেন না বিজেপির কোনও বিধায়কের ঘরে। সটান গিয়ে বসলেন বিধানসভার রিপোর্টার রুমে। তাঁর এই আগমন এবং কার্যকলাপ রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো এক জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। অসমর্থিত সূত্রে শোনা যাচ্ছে, যদি একান্তই বিজেপিতে যোগ্য সম্মান দিলীপ ঘোষ না পান তাহলে এবার তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন তিনি!
আরও পড়ুন: হেরেও যেন হার না মানার মনোভাব, নিজের গড় বহরমপুরে ফের সক্রিয় অধীর


লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে লড়ে হারতে হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। এরপরই কেন্দ্র বদল নিয়ে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। নাম না নিলেও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেই যে তিনি নিশানায় নেন তা কার্যত জলের মতো পরিষ্কার। পাল্টা, শুভেন্দুও নাম না নিয়ে দিলীপকে জবাব দেন। এমতাবস্থায় দিলীপ ঘোষের রাজনৈতিক ভবিষ্যত কী হতে চলেছে তা নিয়ে নানা মুনির নানা মত।

একদিকে যখন দিলীপ লাগাতার বিজেপির সমালোচনা করছেন তখন তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন একাধিক তৃণমূল নেতারা। ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে হাল আমলের দেবাংশু ভট্টাচার্যের গলায় শোনা গিয়েছে দিলীপের প্রশংসা। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে খড়্গপুর সদর থেকে ভোটে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন। এরপর লোকসভাতেও মেদিনীপুর কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হন তিনি। এবার কেন্দ্র বদলেই তাঁর হার হয়েছে বলে প্রকাশ্যে বলেছেন দিলীপ ঘোষ।
দিলীপ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তাঁর আমলেই বিধানসভায় পদ্ম-শিবির ৩ থেকে ৭৭ আসন জেতে। লোকসভায় ২ থেকে ১৮। যদিও সেই ফলাফলের পর সরতে হয় দিলীপকে। হয়তো, দলের ‘সামান্য’ শ্রীবৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এরপর রাজ্য সভাপতি পদে আসেন সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের নেতৃত্বেই এবার বাংলায় ভরাডুবি হল বিজেপির। লোকসভার আসন ১৮ থেকে কমে হল ১২।


তৃণমূলের তরফে একটা বার্তা আসছে, দিলীপ ঘোষ ‘আদি’ বিজেপি এবং বিপরীতে অবস্থান করলেও তাঁকেই সমস্ত ‘ক্রেডিট’ দেওয়া হচ্ছে। একটা জিনিস স্পষ্ট, দিলীপ যদি তৃণমূলে আসতে চান তাহলে তাঁর জন্য দরজা খোলা রাখতে চাইছে জোটাফুল শিবির। তবে, দিলীপ ঘোষ দীর্ঘদিন ধরে আরএসএস করেছেন। সংঘের প্রচারক ছিলেন। তাঁর পক্ষে তৃণমূলে যোগদান সম্ভব, এই তত্ত্বকে অনেকে হেসে উড়িয়ে দিচ্ছেন।
হঠাৎই বিধানসভায় দিলীপ, মুখ ফেরালেন বিজেপির থেকে, তবে কি সত্যি হবে আশঙ্কা?

তাছাড়া, এই মুহূর্তে ফের একবার দিলীপকে রাজ্য সভাপতি পদে আনা হতে পারে, সেই জল্পনা অনেক বেশি। আগামী শনিবার লোকসভার ফলাফল নিয়ে বৈঠক ডেকেছে বিজেপি। সেখানে হাজির থাকার কথা দিলীপ, শুভেন্দু, সুকান্ত সকলেরই। ফলে, দিলীপ ঘোষ বর্তমানে আলচনার কেন্দ্রে। রাজনীতি সম্ভাবনার শিল্প! সেখানে কোনও দাবিই উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এখন, দিলীপ কী করেন বা তাঁকে নিয়ে বিজেপি কী সিদ্ধান্ত সেটাই দেখার। কারণ, তিনি হেরে গিয়ে ‘চুপ’ করে বসে থাকার পাত্র যে নন, তা তাঁর এতদিনের রাজনৈতিক জীবন পর্যালোচনা করলে স্পষ্ট।







