নজরবন্দি ব্যুরো: বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষ দিন, মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ। ইতিমধ্যে মনোনয়ন জমা দেওয়াকে ঘিরে বাসন্তী, ক্যানিং, ইন্দাস, ভাঙড় থেকে অশান্তির খবর সামনে এসেছে। খুন হয়েছে এক কংগ্রেস কর্মী। বাংলার মাটিতে রক্ত ঝরছে শুধু শাসক-বিরোধীরই নয়, তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দলের খবরও সামনে আসছে। এই দ্বন্দ্বের জেরে দলবদল অনেকেই করছেন। সামগ্রিকভাবে এই পরিস্থিতি নিয়ে অকপট বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
আরও পড়ুন:পঞ্চায়েত ভোট ইস্যু, ফের আদালতের দ্বারস্থ শুভেন্দু অধিকারী


টিকিট না পেয়ে তৃণমূল কর্মীদের দলবদল নিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, ‘সারা পশ্চিমবঙ্গে হবে, আজকের দিনটা দেখতে দিন। এর জন্য আগে থেকে প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করেনি তৃণমূল কংগ্রেস। বলেছিল ঘোষণা করবে। কিন্তু ঘোষণা করার পর থেকেই পদ ছাড়া দল ছাড়ার হিড়িক শুরু হয়ে গেছে। আজ থেকে আবার নির্দল হিসেবে অনেক লোক নমিনেশন করবে। কাল থেকে শুরু হয়েছিল, পার্টির লোকেরা তাদের মেরে তাড়িয়ে দিয়েছে, নির্দল নমিনেশন করতে দেয়নি। আজ থেকে দল ছাড়া পদ ছাড়া আবার হবে।‘
পাঁচ দিন ধরে রাজ্যের বিরোধী দল অভিযোগ করে আসছে পঞ্চায়েতে মনোনয়ন জমা করতে গেলে শাসক দল তৃণমূলের লোকজন বাঁধা দিচ্ছে। অথচ এই কদিনে ঘাসফুল শিবির থেকে মনোনয়ন জমা দেওয়া হয়নি। এই প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তৃণমূলকে খোঁচা মেরে বলেন, ওই যে, গন্ডগোল কম হবে! আজকে গন্ডগোল হতে হতে নমিনেশন হয়ে যাবে। বাকিরা নমিনেশন করতে পারবে না। নির্দল নমিনেশন যাতে কম হয়, সে জন্য এটা করেছে।


আগামী ১৬ জুন নামখানার ইন্দিরা ময়দানে শেষ হচ্ছে নব জোয়ার কর্মসূচি। ওইদিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকবেন মমতা বন্দোপাধ্যায়। এই হাইভোল্টেজ সভা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চ্চা চলছে, বিশেষত পঞ্চায়েত ভোট দোরগোড়ায় যখন কড়া নাড়ছে। এই প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষের সাফ কথা, উনি সবসময় গিয়েছেন যেখানে একটু কমজোর হয়েছে সেখানেই গিয়েছেন। মালদহে, মেদিনীপুরে গিয়েছেন ,স্বাভাবিক হাত ধরে একটু শেখাতে হয় ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েতটা। কেউ যদি শেখে ভাল, ডায়াসের নেতা হয়ে গেলেই সমস্যা।

সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার পুলিশকে আক্রান্ত হতে হয়েছে। এই বিষয়ে বিজেপির সর্বভারতীয় সহ সভাপতি বলেন, সারা বছর বোম বন্দুকের আওয়াজ করে দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়ায়। তারাই রাজনীতিকে কন্ট্রোল করে। পুলিশ তাদের গায়ে হাত দেয় না। খুন জখম হচ্ছে তার কোন এফআইআর হয় না, চার্জশিট হয় না, কেস পর্যন্ত হয় না। ফলে এই দুষ্কৃতীদের দাপট বেড়ে গেছে। তারাই ভোট করাচ্ছে, নমিনেশন করাচ্ছে। পুলিশ এদের গায়ে হাত দিতে ভয় পায়।

রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী রাজ্য নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তোপ দেগে বলেছেন, প্রার্থীরা মনোনয়ন পত্র জমা কিংবা অন্য বিষয়ে অভিযোগ জানাতে হলে অনলাইনে অভিযোগ নেওয়ার কথা থাকলেও কমিশন এ ব্যাপারে নীরব’। শুভেন্দুর এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে দিলীপ ঘোষ বলেন, যেখানে আমাদের করার ছিল আমরা করে ফেলেছি। যে সমস্ত জায়গাগুলো স্পর্শকাতর, বসিরহাট, ভাঙড়, ফলতায় একজন কোনও বিরোধীকে নমিনেশন ফাইল করতে দেওয়া হয়নি। বীরভূমে, মুর্শিদাবাদ, কোচবিহার, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনার বিস্তীর্ণ এলাকায় সব সময় গন্ডগোল হয়, এখনও হচ্ছে।
বিরোধীদের নমিনেশন ফাইল করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। তা না হলে আমাদের প্রায় ৬০ হাজারের কাছাকাছি নমিনেশন হয়ে যেত। সেখানে ৪৬ হাজার ৪৭ হাজারে আটকে গিয়েছে। বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষ দিন। অভিযোগ উঠছে, বেশ কয়েক জায়গাতে বিরোধীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেনি। দিলীপ ঘোষ বলেন, কিছু জায়গায় প্রশাসনিক গন্ডগোল ছিল। এফিসিয়েন্সির অভাব ছিল। কিছু জায়গায় বাধা দেওয়া হয়েছে। নইলে ২ লক্ষ পেরিয়ে যেত। যে সমস্ত জায়গাগুলোতে বিরোধীরা নমিনেশন ফাইল করতে পারিনি, সেই সমস্ত জায়গাতে প্রশাসন এবং নির্বাচন কমিশনকে ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে নমিনেশন ফাইল করতে পারে।
বৃহস্পতিবার মনোনয়নের শেষ দিন, মুখ খুললেন দিলীপ ঘোষ

সব মিলিয়ে, পঞ্চায়েত ভোট এবং এর প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মনোনয়ন জমা দিতে না পারার তিরে বিদ্ধ তৃণমূল কংগ্রেস। যদিও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন,বিরোধীরা সবচেয়ে বেশি মনোনয়ন জমা দিয়েছে। কিন্তু বিরোধী শিবির থেকে শাসক দলের বিরুদ্ধে বাড়ে বাড়ে অভিযোগ করছে ঘাসফুল শিবিরের কর্মী সমর্থকদের বাধায় তাঁরা মনোনয়ন জমা দিতে পারছে না। অভিযোগ পাল্টা অভিযোগে তপ্ত হয়ে উঠেছে পঞ্চায়েত ভোট। ৮ জুলাই ভোটের দিন হাওয়া কি দাঁড়ায় এই দিকে তাকিয়ে গোটা বাংলা।







