২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপির ব্রিগেড সভা ঘিরে রাজনৈতিক বার্তা স্পষ্ট। আর সেই সভার মঞ্চেই বহুদিন পর নজরে পড়লেন প্রাক্তন রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ ঘোষ। দলের রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে একই মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছে—তবে কি আবার সক্রিয় রাজনীতির মূল স্রোতে ফিরছেন তিনি? খড়্গপুর থেকে প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনাও এখন আলোচনায়।
শনিবার কলকাতার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভায় মঞ্চে ডাক পড়তেই চওড়া হাসি মুখে উঠে আসেন দিলীপ ঘোষ। মঞ্চে উপস্থিত অন্য নেতাদের ভিড়েও তাঁকে আলাদা করে চেনা যাচ্ছিল—সাদা পাজামা-পাঞ্জাবির মাঝে তাঁর পার্পল রঙের কুর্তা যেন বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
রাজ্য বিজেপির রাজনীতিতে একসময় অত্যন্ত প্রভাবশালী ছিলেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর রাজ্য সভাপতির সময় দলীয় মঞ্চে প্রায়ই দেখা যেত না তখনকার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে, যা নিয়ে পরে অসন্তোষও প্রকাশ করেছিলেন বাবুল। সময়ের সঙ্গে সেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে, আর একসময় দলের মূল আলোচনার বাইরে চলে গিয়েছিলেন দিলীপ নিজেই।
তবে এবারের নির্বাচনের আগে পরিস্থিতি আবার বদলাতে শুরু করেছে। বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের আমলে দলীয় রাজনীতিতে তুলনামূলক উদারতা এসেছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তাঁর উদ্যোগেই অনেকটা সময় পরে আবার রাজ্য বিজেপির মূল স্রোতে ফিরতে শুরু করেছেন দিলীপ ঘোষ।
যদিও দলের কৌশল নির্ধারণে এখনও দিলীপের বিশেষ ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি দিল্লিতে বিজেপির প্রার্থী বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বসেছিল, যেখানে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। কিন্তু সেই বৈঠকে দিলীপ ঘোষকে দেখা যায়নি।
তবু দলীয় শীর্ষ সূত্রে খবর, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে খড়্গপুর সদর আসন থেকে প্রার্থী করা হতে পারে দিলীপ ঘোষকে। বর্তমানে ওই আসনের বিধায়ক অভিনেতা-রাজনীতিক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। তবে তাঁকে ওই আসনে পুনরায় প্রার্থী না করে সম্ভবত ঘাটাল লোকসভা এলাকার অন্য কোনও কেন্দ্রে সরিয়ে দেওয়া হতে পারে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই সম্ভাবনার ইঙ্গিত ইতিমধ্যেই পেয়ে গেছেন দিলীপ। গত প্রায় এক মাস ধরে তাঁকে বেশিরভাগ সময় খড়্গপুরেই কাটাতে দেখা গিয়েছে। তার পর ব্রিগেডের মঞ্চে তাঁর উপস্থিতি অনেকেই দেখছেন বিজেপির রাজনীতিতে দিলীপ ঘোষের প্রত্যাবর্তনের সংকেত হিসেবেই।



