হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!

হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসছে একাধিক নাম। শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চটোপাধ্যায় তো আছেনই তালিকায়, সঙ্গে যে নামটা সবচেয়ে জোরালো ভাবে উঠে আসছে তিনি হলেন দিলীপ ঘোষ!

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে বদল অবশ্যম্ভাবী। বর্তমান সভাপতি সুকান্ত মজুমদার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন। বিজেপির ‘এক ব্যক্তি এক পদ’ নীতি অনুযায়ী তাঁকে ইস্তফা দিতে হবে। এখন, প্রশ্ন নতুন কে রাজ্য সভাপতি হতে চলেছেন? হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসছে একাধিক নাম। শুভেন্দু অধিকারী, শমীক ভট্টাচার্য, লকেট চটোপাধ্যায় তো আছেনই তালিকায়, সঙ্গে যে নামটা সবচেয়ে জোরালো ভাবে উঠে আসছে তিনি হলেন দিলীপ ঘোষ!

আরও পড়ুন: হঠাৎই বিধানসভায় দিলীপ, মুখ ফেরালেন বিজেপির থেকে, তবে কি সত্যি হবে আশঙ্কা?

দিলীপ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তাঁর আমলেই বিধানসভায় পদ্ম-শিবির ৩ থেকে ৭৭ আসন জেতে। লোকসভায় ২ থেকে ১৮। যদিও সেই ফলাফলের পর সরতে হয় দিলীপকে। হয়তো, দলের ‘সামান্য’ শ্রীবৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। এরপর রাজ্য সভাপতি পদে আসেন সুকান্ত মজুমদার এবং বিরোধী দলনেতা হন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁদের নেতৃত্বেই এবার বাংলায় ভরাডুবি হল বিজেপির। লোকসভার আসন ১৮ থেকে কমে হল ১২।

হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!

যদিও এই বিপর্যয় মানতে নারাজ বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, আসন কমলেও ভোট শতাংশ বেড়েছে, বেশ কয়েকটি বিধানসভা আসনও এসেছে ঝুলিতে। অসমর্থিত সূত্রে খবর, শুভেন্দু অধিকারীকে রাজ্য সভাপতি করবে না বিজেপি। কারণ, তাঁর আরএসএস করার ইতিহাস নেই। লকেট চট্টোপাধ্যায় বা শমীক ভট্টাচার্যের ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।

হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!

ফলে, নতুন করে আবার দিলীপ ঘোষকে রাজ্য সভাপতি করা হতে পারে। কিন্তু, সেখানে ‘কাঁটা’ হয়ে দাঁড়াতে পারেন সুকান্ত বা শুভেন্দু। কারণ, লোকসভা নির্বাচনে বর্ধমান-দুর্গাপুর কেন্দ্র থেকে লড়ে হারতে হয়েছে দিলীপ ঘোষকে। এরপরই কেন্দ্র বদল নিয়ে বঙ্গ বিজেপি নেতৃত্বকে কাঠগড়ায় তোলেন তিনি। নাম না নিলেও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকেই যে তিনি নিশানায় নেন তা কার্যত জলের মতো পরিষ্কার। পাল্টা, শুভেন্দুও নাম না নিয়ে দিলীপকে জবাব দেন।

হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!

শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ আর এক বিজেপি বিধায়ক অশোক দিন্দাও দিলীপের বিপক্ষে মুখ খুলেছেন। তাঁর কথায়, “হেরে যাওয়ার পর অনেকেই অনেক কিছু বলেন। তাতে আমি কিছু মনে করি না। জো জিতা ওহি সিকান্দার। কে কীভাবে জিতল, কে কেন জিতল না, কে কাঠি করল… ওসব কথাবার্তার কোনও মূল্য নেই।”

হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!
হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!

এদিকে শুক্রবার আচমকাই বিধানসভায় হাজির হন দিলীপ ঘোষ। কিন্তু, একবারও যাননি বিজেপির কোনও বিধায়কের ঘরে। সটান গিয়ে বসেন বিধানসভার রিপোর্টার রুমে। তাঁর এই আগমন এবং কার্যকলাপ রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো এক জল্পনাকে উস্কে দিয়েছে। দিলীপ বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি। তাঁর আমলেই বিধানসভায় পদ্ম-শিবির ৩ থেকে ৭৭ আসন জেতে। লোকসভায় ২ থেকে ১৮। যদিও সেই ফলাফলের পর সরতে হয় দিলীপকে। হয়তো, দলের ‘সামান্য’ শ্রীবৃদ্ধিতে সন্তুষ্ট ছিলেন না কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!
হাল ফেরাতে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে প্রয়োজন? ৬৩ শতাংশ বলছেন দিলীপ ঘোষ!

এমতাবস্থায়, নজরবন্দি-র তরফে একটি জনমত সমীক্ষা রাখা হয় সামাজিক মাধ্যমে। সেখানে বিজেপির রাজ্য সভাপতি পদে কাকে দেখতে চান জানতে চাওয়া হলে, ৬৩ শতাংশ মানুষ দিলীপ ঘোষের পক্ষে রায়দান করেছেন। শুভেন্দুকে চেয়েছেন ২৮ শতাংশ, শমীককে ৫ শতাংশ ও লকেটকে ৪ শতাংশ। আর ২ বছর পরেই রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার প্রস্তুতি শুরু করতে গেলে আগে দলের কাণ্ডারী নির্বাচন করা প্রয়োজন। যদিও এই নতুন রাজ্য সভাপতির বিতর্ককে একেবারেই আমল দিতে চাননা সুকান্ত মজুমদার। তাঁর কথায়, আপাতত আমিই আছি, পরবর্তী সিদ্ধান্ত দল নেবে!

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন