প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বঙ্গ সফরের দিন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনার পরেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্য রাজনীতি। আর সেই আবহেই বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের মন্তব্য নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালাল। রবিবার নিউটাউনের ইকো পার্কে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি দাবি করেন, “শশী পাঁজার বাড়িতে হামলা হতে পারে, কালীঘাটেও হামলা হতে পারে।” তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই প্রশ্ন উঠছে— তবে কি শশী পাঁজার পর টার্গেটে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
রবিবার সকালে প্রাতঃভ্রমণের পর নিউটাউনের ইকো পার্কের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন দিলীপ ঘোষ। সেখানে তিনি বলেন, তৃণমূলকে আক্রমণ করতে বাইরে থেকে কাউকে আনতে হবে না, বিজেপি কর্মীরাই তা করতে সক্ষম। তাঁর কথায়, “সারা বাংলায় মারব। আমাদের কর্মীরা তৈরি হয়ে আছে। শুরু করেছি, এবার সাধারণ মানুষও হাত লাগান।”


শশী পাঁজার বাড়িতে হামলার ঘটনাকে ‘নাটক’ বলেও কটাক্ষ করেন দিলীপ। তাঁর দাবি, তৃণমূলই অতীতে একাধিকবার ভাঙচুর ও হামলার রাজনীতি করেছে। তিনি বলেন, “শশী পাঁজা নাটক করছেন। গুরু যেমন, চেলা তেমন। কালও মব নিয়ে বাসে ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়েছে।”
এখানেই থেমে থাকেননি বিজেপি নেতা। আরও হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, “এবার সাবধান না হলে শুধু মাথায় নয়, আরও অনেক জায়গায় ব্যান্ডেজ বাঁধতে হবে। বোম, বন্দুক সব আনব।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, অতীতে বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি জে.পি. নাড্ডার উপর হামলার ঘটনারও ‘হিসাব’ চুকানো হবে।
দিলীপ ঘোষের বক্তব্যে সরাসরি কালীঘাটের উল্লেখ থাকায় রাজনৈতিক মহলে জল্পনা তীব্র হয়েছে। কালীঘাটেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি। ফলে তাঁর এই মন্তব্যকে ঘিরে বিরোধীদের একাংশ প্রশ্ন তুলছে— একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে কীভাবে এমন হুমকি দেওয়া যায়?


প্রসঙ্গত, সাম্প্রতিক কয়েকটি নির্বাচনে বাংলায় প্রত্যাশিত ফল করতে পারেনি বিজেপি। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে তাই গেরুয়া শিবিরের কাছে ‘ডু অর ডাই’ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সাংগঠনিক দুর্বলতা ও দলীয় গোষ্ঠীকোন্দলও বারবার সামনে এসেছে।
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক মহলের একাংশের প্রশ্ন— ভোটের আগে কি উত্তেজনা বাড়াতেই হুমকির রাজনীতি করছে বিজেপি? যদিও তৃণমূলের দাবি, বাংলার মানুষ হিংসার রাজনীতিকে সমর্থন করবে না এবং গণতান্ত্রিক উপায়েই তার জবাব দেবে।










