লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ জোট মোদির নেতৃত্বে তৃতীয়বারের জন্য সরকার গঠন করেছে কেন্দ্রে। কিন্তু এইবার লোকসভা নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসতে পারেনি বিজেপি। তাই শরিকদের সঙ্গে নিয়েই এবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন মোদি। এবার লোকসভা নির্বাচনে দেশজুড়ে বিজেপির ফল খারাপ হয়েছে। অন্যথা হয়নি আমাদের রাজ্যেও। গতবারের ১৮ টি আসন থেকে বিজেপি কমে গিয়েছে ১২ টি তে। এবারের নির্বাচনে রাজ্য থেকে জয়ী হতে প্রধানত শুভেন্দু অধিকারীর উপরেই ভরসা করেছিল বিজেপি নেতৃত্ব।
আরও পড়ুনঃ মানিকতলা উপনির্বাচনে বিজেপি প্রার্থী তাপস রায়, ফুল বদলে ফিরতে চান বিধানসভাতেই?

ভোট প্রচার থেকে আসন ভাগ সবকিছুতেই পূর্ণ স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছিল রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে । কিন্তু দলের সেই ভরসার সদব্যবহার করতে পারেননি শুভেন্দু। তাই দলের অন্তরেই গুঞ্জন উঠেছে বিরোধী দলনেতার পথ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক শুভেন্দু অধিকারীকে। কারণ বিজেপি বাংলার বুকে এখনো সেই রকম সংগঠন গড়ে তুলতেই পারেনি তার নেতৃত্বে। যদিও অনেকে মনে করছেন এই হারের জন্য তাঁর সঙ্গে দায়ী দলের রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারও।
কিন্তু দলের অন্তরে সবচেয়ে বেশি সমালোচিত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। আর তার একমাত্র এবং প্রধান কারণ হলো মেদিনীপুর সিট থেকে দিলীপ ঘোষ কে দুর্গাপুর বর্ধমান আসনে টেনে নিয়ে আসা। কারণ দিলীপ বাবু নিজেই স্বীকার করেছেন দীর্ঘ দু বছরের বেশি সময় ধরে তিনি মেদিনীপুর কেন্দ্রে কাজ করে চলেছিলেন। কিন্তু ভোটের ঠিক আগে তাঁকে অন্য জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার ঘটনা যেমন মেনে নিতে পারেননি দিলীপ ঘোষ নিজে, তেমনি দলের অন্তরেও অনেকে তা মেনে নিতে পারেননি। তাহলে এখন প্রশ্ন উঠছে শুভেন্দু কে সরিয়ে বিরোধী দলনেতা কে হবেন। আর এখানেই অনেকেই মনে করছেন দিলীপ ঘোষ।

কিন্তু কিভাবে সেটা সম্ভব। এটা সম্ভব লোকসভা নির্বাচনে জিতে নতুন সাংসদ হয়েছেন জুন মালিয়া। যিনি মেদিনীপুর বিধানসভার বিধায়ক ছিলেন। তিনি সংসদ যাবার পর সেখানে উপনির্বাচন হবে। বিজেপি-র অন্দরে অনেকেই দাবি তুলেছেন এই উপনির্বাচনে প্রার্থী করা হোক দিলীপ বাবুকে। মেদিনীপুর বিধানসভার ভোটের নিরিখে সামান্য এগিয়ে আছে তৃণমূল। তারা বিজেপির থেকে ২০০০ এর কিছু বেশি ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এই কেন্দ্রে দিলীপ বাবুকে প্রার্থী করালে বিজেপি-র জেতার সম্ভাবনা অনেক অংশে বেড়ে যাবে।
মেদিনীপুর উপনির্বাচন জিতলেই বিরোধী দলনেতার পদ, দিলীপকে সামনে রেখে লড়াই চায় RSS

আর তিনি যদি জিততে পারেন তাহলে বিধানসভা তে দিলীপ ঘোষই হবেন পরবর্তী বিরোধী দলনেতা। তাহলে শুভেন্দু অধিকারীর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কি? অনেক রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন শুভেন্দু অধিকারী কে দেওয়া হতে পারে বিজেপি রাজ্য সভাপতি পদ। অর্থাৎ সুকান্তর জায়গায় শুভেন্দু কে বসানো হতে পারে। কিন্তু বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি হতে গেলে অবশ্যই সেই ব্যক্তিকে আরএসএস ঘনিষ্ঠ হতে হয়। এক্ষেত্রে শুভেন্দু অধিকারী কে কোনভাবেই রাজ্য সভাপতির পদে মেনে নেবে না আরএসএস। ফলে এখানেও শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে তৈরি হবে জটিলতা। এই অবস্থায় নিজের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে বেশ খানিকটা উদ্বেগেই রয়েছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা।



