দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী অক্ষয় তৃতীয়ার দিন (এপ্রিল-মে মাসের মাঝামাঝি) পশ্চিমবঙ্গের দিঘায় তৈরি নতুন জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে বুধবার এই ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই মন্দির পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের আদলে নির্মিত এবং সমুদ্রতীরবর্তী এই স্থাপনা বাংলার অন্যতম তীর্থস্থান হিসেবে গড়ে উঠবে।
২০১৯ সালে দিঘায় পুরীর আদলে জগন্নাথ মন্দির তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোভিড পরিস্থিতির পর ২০২২ সালের মে মাসে হিডকোর উদ্যোগে এর নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২২ একর জমির উপর নির্মিত মন্দিরটি তৈরি করতে খরচ হয়েছে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমাদের লক্ষ্য ছিল সমুদ্রতীরে এমন একটি মন্দির গড়া যা পর্যটক এবং ভক্তদের কাছে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হবে। মন্দিরে থাকবে ভোগঘর, গেস্ট রুম এবং ব্যবসার জন্য সেল্ফ হেল্প গ্রুপের জন্য সুযোগ। মন্দির পরিচালনার জন্য তৈরি হয়েছে একটি ট্রাস্টি বোর্ড।”
ট্রাস্টি বোর্ডের গঠন
মন্দির পরিচালনার জন্য ১৩ সদস্যের একটি ট্রাস্ট গঠিত হয়েছে। এর নেতৃত্ব দেবেন মুখ্যসচিব। সদস্যদের মধ্যে থাকছেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক, পুলিশ সুপার, ইসকন প্রতিনিধি, সনাতন ধর্মের চারজন প্রতিনিধি, পুরীর মন্দিরের পাঁচজন এবং দিঘার মন্দিরের পুরোহিত। মুখ্যমন্ত্রী নিজে এই বোর্ডে থাকবেন না, তবে তিনি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করবেন।
দিঘার জগন্নাথ মন্দির থেকে এবার প্রথমবার রথযাত্রা শুরু হবে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে রথযাত্রার জন্য সোনার ঝাড়ুর ব্যয় হিসেবে ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা করেছেন। মন্দিরে প্রতিদিন পতাকা উত্তোলনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যা পুরীর মন্দিরের ঐতিহ্যকে অনুকরণ করবে।
মন্দির চত্বরকে কেন্দ্র করে পর্যটনকে উৎসাহিত করার জন্য তৈরি করা হচ্ছে পুলিশ পোস্ট, রথ রাখার স্থান এবং অতিথি নিবাস। এছাড়া পুরোহিতদের থাকার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা থাকবে। মন্দিরের প্রধান প্রবেশদ্বারের নাম রাখা হয়েছে ‘চৈতন্যদ্বার জগন্নাথ ধাম’। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এই স্থাপনা সারা ভারতের পর্যটকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হবে।



