যাদবপুরের গাঙ্গুলিবাগানে বামেদের ধর্মঘট ঘিরে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। বেকারত্বের প্রতিবাদে এসএফআই-এর নেতৃত্বে অনুষ্ঠিত এই ধর্মঘট ঘিরে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। সকাল থেকেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে গাঙ্গুলিবাগান অঞ্চল। পুলিশের বাধা পেরিয়ে এগোতে চাইলে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন এসএফআই-এর সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সৃজন ভট্টাচার্য। অভিযোগ, তাঁকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে যাওয়ার সময় তাঁর হাতে চোট লাগে ও জামা ছিঁড়ে যায়।
বুধবার সকালে যাদবপুর থেকে মিছিল শুরু হয় বাম ছাত্র সংগঠনের তরফে। বেকারত্ব, শিক্ষাক্ষেত্রে বঞ্চনা এবং মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে এই মিছিল আহ্বান করে এসএফআই। গাঙ্গুলিবাগানে পৌঁছতেই পুলিশ মিছিল আটকানোর চেষ্টা করে, সেই সময়েই ঘটে প্রথম উত্তেজনা। পুলিশের সঙ্গে তর্কাতর্কির পর পরিস্থিতি দ্রুতই হাতাহাতিতে পরিণত হয়। সৃজন ভট্টাচার্যকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করা হয় বলে অভিযোগ।


ঘটনায় এক মহিলা বাম সমর্থক অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের দাবি, পুলিশের ধাক্কাধাক্কির জেরে তিনি জ্ঞান হারান। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে, যখন প্রতিবাদকারীরা রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন।
বাম ছাত্র নেতাদের দাবি, রাজ্যের সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকার—উভয়েরই নীতির ফলে যুব সমাজ বেকারত্বে জর্জরিত। তাঁদের বক্তব্য, এই আন্দোলন শুধুমাত্র চাকরির দাবিতেই নয়, গোটা শিক্ষাব্যবস্থার দুর্নীতির বিরুদ্ধেও। পুলিশের আচরণকে তাঁরা ‘গণতন্ত্রের কণ্ঠরোধ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ঘটনাস্থলে পৌঁছান ডিসি (এসএসডি) বিদিশা কলিতা। তাঁর উপস্থিতিতেই পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে। যদিও ততক্ষণে সৃজন সহ মোট ১৯ জন আন্দোলনকারীকে পুলিশ হেফাজতে নেয়।


সৃজন ভট্টাচার্য একাধিকবার পুলিশি বাধার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন এবং স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “মিছিল হবেই। তৃণমূল ও বিজেপি, উভয়েরই অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।”
এই ঘটনার পর রাজ্যের অন্যান্য জায়গাতেও ধর্মঘট ঘিরে উত্তেজনার ছবি দেখা যায়। বিভিন্ন স্টেশনে রেল অবরোধ, রাস্তায় বাস আটকানো এবং মিছিলের মাধ্যমে দিনভর বামপন্থীরা তাঁদের অবস্থান জানায়। বাম নেতৃত্বের মতে, যতই দমন-পীড়ন হোক না কেন, সাধারণ মানুষের সমস্যা নিয়ে তাঁরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এই সংঘর্ষ ও গ্রেফতারির ঘটনা নিয়ে এখনও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে রাজনৈতিক মহলে ইতিমধ্যেই তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে। অনেকে বলছেন, সামনে পুরসভা বা লোকসভা ভোটের নিরিখে বামেদের এমন উত্তেজনাপূর্ণ আন্দোলন রাজ্য রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটাতে পারে।







