নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনার দ্বিতিয় ঢেউয়ের সংকটের সময়ে রাজ্য জুড়ে আশার আলো হয়ে সামনে এগিয়ে এসেছে রেড ভলেন্টিয়ার্স, রোদ-ঝড়-বৃষ্টি সব পেরিয়ে দল রঙ নির্বিশেষে দিন রাত এক করে বহু বহু অজানা মানুষের জন্য কাজ করেছেন তাঁরা। ভারতের ছাত্র ফেডারেশন ও ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশনের প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় গড়ে ওঠা “রেড ভলেন্টিয়ার”রা এই করোনাকালে রাজ্যবাসীর কাছে একপ্রকার আশীর্বাদ হয়ে উপস্থিত হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ মোদি-শুভেন্দু বৈঠকের মূল টপিক ৩৫৬ ধারা! তৃণমূল বলছে সবকিছু বাগবাজারের রসগোল্লা নয়


খাবার সরবরাহ থেকে ওষুধ,অক্সিমিটার,অক্সিজেন সিলিন্ডারের প্রয়োজনে তারা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সাধ্যমতো চেষ্টা করে চলেছে। এমনকি করোনায় মৃত মানুষের শেষকৃত্যও তারা নিজহাতে করে চলেছে। কেউ কেউ কাজের জন্য বিক্রি করেছে নিজের সাধের ক্যামেরা। কেউ কেউ নিজের জমানো টাকা ভেঙে বাড়িতে রান্না করেই খাবার পৌঁছে দিচ্ছে সাইকেলে করে।
এমতাবস্থায় ভারতের গনতান্ত্রিক যুব ফেডারেশন রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছিল রেডভলেন্টিয়ারদের “কোভিড যোদ্ধা” র মর্যাদা দিয়ে তাদের টীকাকরনের আওতায় আনার জন্য। আবেদন অনুসারে রাজ্যসরকার ব্লক অফিসের মাধ্যমে রেডভলেন্টিয়ার দের টীকাকরনের কাজ শুরু করে। কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই রাজ্য সরকার রেড ভলেন্টিয়ার দের টীকাকরন বন্ধ করে দেয়।
দিনরাত হাজার হাজার রোগীর পরিবারে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ছুটে যাওয়া রেড ভলেন্টিয়ার্স রা সকলেই টিকা পাননি এখন। অথচ কাজের ছন্দে কমতি আসেনি তাতে। এখন ঝড় জল রোদ মাথায় করেই খাবার ওষুধ পৌঁছে যাচ্ছে রোগীর দরজায়। টিকা করণের প্রতিশ্রুতির পরেও টিকা প্রদান বন্ধ হয়ে যাওয়াকে বাম সঙ্গঠন গুলি রাজনৈতিক হিংসা বলেই মনে করছে।


রাজ্যের সংকটের দিনেও এই ঘৃণ্য চক্রান্তের প্রতিবাদে আজ বাঁকুড়া জেলার খাতড়া ব্লকের রেড ভলেন্টিয়ার দের এক প্রতিনিধিদল খাতড়া ব্লক অফিসে এক অভিনব উপায়ে বিক্ষোভ দেখায়। তাঁরা সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কার্যালয় ও মহকুমা শাষকের কার্যালয় স্যানিটাইজ করার পরিকল্পনা নেয়। তবে সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ দেখাতে এসেও প্রশাসনের ব্যবহারে এবং সহযোগীয়তায় আপ্লুত তাঁরা।
সরকারি সুরক্ষা নেই তবুও কর্তব্যে অবিচল রেড ভলেন্টিয়ার্স। খাতড়া ব্লক রেড ভলেন্টিয়ারদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে “রাজ্য সরকার ও তার প্রশাসন আমাদের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হলেও আমরা প্রশাসন কে করোনা ভাইরাস থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর, তাই আজ প্রশাসনিক ভবন গুলির স্যানিটাইজেশনের মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রতিবাদ জানাতে এসেছিলাম। এখানের সরকারী আধিকারিকরা যেভাবে আমাদের অফিসের ভেতরে ডেকে অফিস স্যানিটাইজড করতে সাহায্য করলেন তা দেখে আমরা আপ্লুত, আমরা আশাকরব আগামী দিনেও সরকারী আধিকারিকরা এইভাবেই আমাদের পাশে থাকবেন।”







