নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাতভর ধর্নায় ৮ সাংসদ। সকালে চা নিয়ে হাজির হরিবংশ! ‘গণতন্ত্রের হত্যা’, ‘আমরা কৃষকদের জন্য লড়ব’, এমন সব পোস্টার নিয়ে কেন্দ্র-বিরোধী স্লোগান ও গান গেয়ে প্রতিবাদী ধর্না চলে রাতভর। ‘জোর করে’ কৃষি বিল পাশ , এবং ‘বেআইনিভাবে’ সাসপেন্ড করার অভিযোগে রাতভর সংসদের গান্ধীমূর্তির পাদদেশে ধরনায় রাজ্যসভার আট সাংসদ। গণতন্ত্রের পীঠস্থানে সংসদের ‘মর্যাদা লঙ্ঘনের’ অভিযোগে সোমবার সকালেই তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, আপের সঞ্জয় সিংহ, কংগ্রেসের রাজীব সতাব, সিপিআইএমের কে কে রাগেশ-সহ আট সাংসদকে সাসপেন্ড করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান বেঙ্কাইয়া নায়ডু।
আরও পড়ুনঃ করোনা মহামারীর কারনে কমবে গড় আয়ু, বলছে গবেষণা!


যার প্রতিবাদে গতকাল দুপুরেই গান্ধী মূর্তির পাদদেশে ধর্নায় বসেন বিরোধী সাংসদরা। স্লোগান ও গান গাওয়া দিয়ে রাতভর চলে বিক্ষোভ। তবে মজার কথা হল, যার বিরুদ্ধে বিরোধী সাংসদদের মূল অভিযোগ সেই রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশ নারায়ণ সিং আজ সকালে তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে যান সাংসদদের ধর্নাস্থলে, চা নিয়ে হাজির হন রাজ্যসভার ডেপুটি চেয়ারম্যান! সাথে একগুচ্ছ সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধি। যদিও তাঁর সেই প্রস্তাব বিফল হয়। কোন সাংসদই চা খান নি। চা না খেয়ে সাংসদরা জানিয়ে দেন, তাঁদের এই অবস্থান অনির্দিষ্টকালের। হরিবংশের এই পদক্ষেপ ‘লোকদেখানো’ বলে কটাক্ষ করেন সাংসদ রা।
রাতভর ধর্নায় ৮ সাংসদ। প্রসঙ্গত রবিবার রাজ্যসভায় জোড়া কৃষি বিল পাশ করানো নিয়ে তুলকালাম হয়। কৃষি বিল নিয়ে বিতর্কের জেরে কংগ্রেস সাংসদ রিপুন বোরা, তৃণমূল সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন , আপ সাংসদ সঞ্জয় সিং ও ডিএমকে সাংসদ ত্রিরুচি শিবা ডেপুটি চেয়ারম্যান হরিবংশের পোডিয়ামের মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এমনকী, তাঁরা রুলবুক, কাগজপত্রও ছিঁড়ে দেন বলে অভিযোগ। তারপরই মোট আট সাংসদকে সাত দিনের জন্য সাসপেন্ড করার কথা ঘোষণা করেন রাজ্যসভার চেয়ারম্যান ভেঙ্কাইয়া নায়ডু।
বিরোধীদের অভিযোগ, রাজ্যসভার চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্ত পক্ষপাতদুষ্ট। ডেরেকের বক্তব্য, “কাল আমাদের ফিরিয়ে নেওয়া না-হলে বিরোধীরা গোটা অধিবেশনের জন্য সংসদ বয়কট করবে।’’ বিরোধী নেতারা সংসদের ভিতরে ধর্নায় বসেননি অধিবেশন শেষ হলে তাঁদের বের করে দেওয়া হতে পারে বলে। কিন্তু লোকসভা স্পিকারের নির্দেশে রাতে তাঁদের সংসদ চত্বর থেকেও বার করার চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা। যদিও গভীর রাত পর্যন্ত তেমন কিছু ঘটেনি। উল্টে সংসদের পক্ষ থেকে সাংসদদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া হয়। তবে সংসদের দিকে মিছিল করে আসা পঞ্জাবের কংগ্রেস সাংসদদের বিজয় চকে আটকে দেয় পুলিশ।


উল্লেখ্য, ডেপুটি চেয়ারম্যান রঘুবংশের এই ‘চা’ প্রয়াসকে সাধুবাদ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। টুইটারে তিনি লিখেছেন, ‘‘যাঁরা আক্রমণ করেছেন, তাঁদের জন্য চা নিয়ে যাওয়া হরিবংশের বিনয়ী ও উদার হৃদয়ের পরিচায়ক। তাঁর মহত্বের নিদর্শন। দেশবাসীর সঙ্গে আমিও হরিবংশকে অভিনন্দন জানাই।’’








