‘এম’ ফ্যাক্টরে ভর করে এগোচ্ছে তৃণমূল? প্রথম দফার ভোটের পর কোন আত্মবিশ্বাসের অঙ্ক শাসক শিবিরে?

প্রথম দফার ভোটের পর তৃণমূলের ভরসা ‘এম’ ফ্যাক্টর—মহিলা, মুসলিম ও মমতা। স্বতঃস্ফূর্ত ভোট, পরিযায়ী প্রভাব ও SIR ইস্যুতেই আত্মবিশ্বাসী শাসক শিবির

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

প্রথম দফার ভোট মিটতেই সংখ্যার লড়াইয়ে দুই শিবিরের দাবি-প্রতিদাবি তুঙ্গে। কিন্তু বিজেপির আগাম জয়ের সুরের মাঝেই তৃণমূল শিবিরে আত্মবিশ্বাসের ভিত্তি একেবারেই আলাদা—তাদের মতে, ভোটের স্বতঃস্ফূর্ততা এবং মাটির প্রতিক্রিয়াই ফলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর সেই আত্মবিশ্বাসের কেন্দ্রে রয়েছে তথাকথিত ‘এম’ ফ্যাক্টর—মহিলা, মুসলিম এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

প্রথম দফার ভোটে মহিলা ভোটারদের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। শাসকদলের অন্দরমহলের হিসেব বলছে, বিপুল সংখ্যক মহিলা ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন এবং তাঁদের বড় অংশই জোড়াফুলের দিকে ঝুঁকেছেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্প—লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী, সবুজ সাথী বা স্বাস্থ্যসাথী—মহিলাদের জীবনে যে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে, সেটাই এই সমর্থনের ভিত্তি বলে মনে করছে তৃণমূল। পাশাপাশি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘ঘরের মেয়ে’ ভাবমূর্তি এখনও ভোটে বড় ফ্যাক্টর—এমনটাই দলের বিশ্বাস।

দ্বিতীয় স্তম্ভ হিসেবে উঠে আসছে সংখ্যালঘু ভোট। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় ভোটের হার তুলনামূলক বেশি থাকায় তৃণমূলের ধারণা, এই ভোটব্যাঙ্ক মূলত তাদের পক্ষেই থাকবে। যদিও কিছু ক্ষেত্রে বাম-কংগ্রেস-আইএসএফ বা অন্যান্য ছোট শক্তির প্রভাব দেখা যেতে পারে, তবুও সামগ্রিকভাবে বিজেপি-বিরোধী মনোভাব সংখ্যালঘু ভোটকে এক জায়গায় ধরে রাখবে—এমনটাই হিসেব শাসকদলের।

তৃতীয় ‘এম’—মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে। তৃণমূলের মতে, রাজ্যের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁর বিকল্প এখনও স্পষ্ট নয়। বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যতই সক্রিয় হোক, বাংলার মাটিতে গ্রহণযোগ্য মুখের অভাব রয়েছে বলেই মনে করছে শাসক শিবির। ফলে ‘মমতা বনাম বাকিরা’—এই লড়াইয়ে এখনও তিনি এগিয়ে।

এছাড়া আরও কিছু সূচককেও গুরুত্ব দিচ্ছে তৃণমূল। যেমন, পরিযায়ী শ্রমিকদের অস্বাভাবিক উপস্থিতি। বহু শ্রমিক ভিনরাজ্য থেকে ফিরে এসে ভোট দিয়েছেন, যা সাধারণত দেখা যায় না। শাসকদলের ধারণা, এই ভোটের একটি বড় অংশ বিজেপি-বিরোধী মনোভাব থেকেই এসেছে। পাশাপাশি SIR ইস্যু ঘিরে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, সেটাও ভোটের আচরণে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করছে তারা।

ভোটের শতাংশ নিয়ে যে বাড়তি আলোচনা চলছে, সেটাকেও অন্যভাবে ব্যাখ্যা করছে তৃণমূল। তাদের মতে, ভোটের হার বাড়ার পেছনে বাস্তবিক কারণ হলো মৃত বা স্থানান্তরিত ভোটারদের নাম বাদ পড়া—ফলে সংখ্যার হিসেব আলাদা দেখাচ্ছে। মোট ভোটের সংখ্যায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি হয়নি বলেই দাবি শাসকদলের।

সব মিলিয়ে তৃণমূলের অঙ্ক বলছে, প্রথম দফার ফল আগের চেয়ে ভালোই হবে। বিজেপির আত্মবিশ্বাসকে তারা ‘অতিরঞ্জন’ হিসেবেই দেখছে। এখন নজর একটাই—চূড়ান্ত ফলাফল সেই আত্মবিশ্বাসকে কতটা সঠিক প্রমাণ করে।

-বিজ্ঞাপন- Shamim Ahamed Ads
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত