ডায়মন্ড হারবারে জনস্রোতের মাঝে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়—নন্দীগ্রাম জিতবেই তৃণমূল। হাজারো মানুষের উপস্থিতিতে রোড শো যেন রাজনৈতিক শক্তিপ্রদর্শনের এক বিরাট মঞ্চে পরিণত হয়, যেখানে অভিষেকের পাশে ছিলেন প্রার্থী পান্নালাল হালদার ও কো-অর্ডিনেটর সামিম আহমেদ। জনতার আবেগ আর স্লোগানের ঢেউয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে ভোটের আগে মাটির লড়াইয়ের বাস্তব চিত্র। কপাটহাট মোড় থেকে এম বাজারের সামনে পর্যন্ত রোড শো করেন তৃণমূল সেনাপতি।
ডায়মন্ড হারবারের রাস্তায় এদিন কার্যত জনপ্লাবন। দলীয় পতাকা, ঢাক-ঢোল, স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে গোটা এলাকা। রোড শো-র শেষ পর্বে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণের পাশাপাশি স্থানীয় নেতৃত্বের উপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান অভিষেক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পান্নালাল হালদারকে জিতিয়ে আনতে হবে, আর এই অঞ্চলের মানুষের পাশে সর্বক্ষণ থাকবেন সামিম আহমেদ—তিনি নজর রাখবেন প্রতিটি সমস্যা ও উন্নয়নের উপর।


বিজেপির ‘ডবল ইঞ্জিন’ মডেলকে আক্রমণ করে অভিষেক বাস্তবতার উদাহরণ টানেন। তাঁর বক্তব্য, কেন্দ্রের শাসিত রাজ্য থেকে মানুষ কাজের খোঁজে বাংলায় আসছে—এটাই সেই মডেলের প্রকৃত চিত্র। তীক্ষ্ণ ভাষায় তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনই আজ বিজেপির রাজনৈতিক দাবির জবাব দিচ্ছে।
এদিন বিজেপির প্রার্থী তালিকা নিয়েও কড়া মন্তব্য করেন তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, রাজনীতির চরিত্র বদলে গেছে—অপরাধমূলক পটভূমির মানুষদেরই বেশি দেখা যাচ্ছে বিরোধী শিবিরে। একইসঙ্গে তিনি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেন—১২ বছরের কেন্দ্রীয় সরকারের কাজ বনাম ডায়মন্ড হারবারে তাঁর উন্নয়ন, যে কোনও মঞ্চে তুলনামূলক আলোচনা করতে প্রস্তুত তিনি।
খাদ্যাভ্যাস ও সংস্কৃতি নিয়েও বিজেপির রাজনীতিকে নিশানা করেন অভিষেক। তাঁর বক্তব্য, বাংলার মানুষ কী খাবে বা কী পরবে, তা বাইরের কেউ ঠিক করে দিতে পারে না। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, বাংলার ঐতিহ্য ও মনীষীদের নিয়েও বিজেপি নেতৃত্বের অজ্ঞতা প্রকাশ পেয়েছে বারবার।


আত্মবিশ্বাসী সুরে অভিষেক দাবি করেন, প্রথম দফাতেই তৃণমূল শতকের গণ্ডি পার করেছে। তাঁর কথায়, ভোটের ফল প্রকাশের পর এই অঞ্চলে বিজেপির উপস্থিতিই খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে হালকা ডিজে-ও বাজবে বলে জানান তৃণমূল সেনাপতি।







