বর্ষা নামতে না নামতেই ফের একবার রাজ্য জুড়ে ফিরল ডেঙ্গি-আতঙ্ক। বিগত ৭ দিনে গোটা বাংলা জুড়ে আক্রান্ত হলেন ১২৯ জন। ডেঙ্গিতে শীর্ষে উত্তর ২৪ পরগণা জেলা। স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি থেকে ২৬ জুন পর্যন্ত রাজ্যে ১ হাজার ৩২৮ জন ডেঙ্গি আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে, ফের একবার ডেঙ্গি নিয়ে তৎপর প্রশাসন।
যে পরিসংখ্যান স্বাস্থ্য দফতরের তরফে দেওয়া হয়েছে সেখান থেকে জানা যাচ্ছে, উত্তর ২৪ পরগনায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ১৭৬ জন। দু’নম্বরে মালদা, সেখানে ১৭৪ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। মুর্শিদাবাদে মোট ডেঙ্গি আক্রান্ত ১৫৩ জন। হুগলিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৪৫। কলকাতায় এখনও পর্যন্ত ১১৩ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। গত বছর রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ছিল সর্বাধিক। প্রায় ১ লক্ষ ৭ হাজার জন, যা ভেঙে দিয়েছিল গত ১২ বছরের রেকর্ড।

বর্ষার হাত ধরে রাজ্যে ফিরল ডেঙ্গি-আতঙ্ক, আক্রান্তের সংখ্যা পেরোল ১৩০০!
এরই মধ্যে যে ব্যাপারটা আরও ভাবাচ্ছে তা হল, কেন্দ্রীয় অনুদান বন্ধ থাকায় আর্থিক টানাটানি শুরু হওয়া। গ্রামেগঞ্জে ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে গুরুত্বপূর্ণ দু’টি টিম। তার একটি হল ‘ভিএসটি’। অন্যটি হল, ‘ভিসিটি’। ভিএসটি অর্থাৎ ভিলেজ সার্ভে টিম। ভিসিটি অর্থাৎ ভেক্টর কন্ট্রোল টিম। ভিলেজ সার্ভে টিমের সদস্যরা গ্রামের বাড়ি বাড়ি ঘুরে দেখেন এবং জমা জল থাকলে তা ফেলে দেন। অন্যদিকে, ভেক্টর কন্ট্রোল টিমের সদস্যরা মশা মারার তেল স্প্রে করেন।

দু’টি দলই পঞ্চায়েত এবং গ্রামোন্নয়ন দপ্তরের অধীনে কাজ করে। প্রত্যেক গ্রাম পঞ্চায়েতে এই দু’টি দলের ১৫ জনের কমিটি আছে। তাতে এক সুপারভাইজার, আট ভিএসটি এবং ছয় ভিসিটি সদস্য কাজ করেন। দুই দলের সদস্যই দিনে ১৭০ টাকা করে ভাতা পান। অভিযোগ, সেই টাকা মাসের পর মাস ধরে অনিয়মিতভাবে আসছে।



