হাসিনা-কে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি, দিল্লী-ঢাকা চুক্তি নিয়ে সঙ্কটে মোদী

শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠাতে ভারত কে আবেদন, মনে করিয়ে দেওয়া হল বন্দি বিনিময় চুক্তির কথা। চরম সঙ্কটে শেখ হাসিনা

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

শেখ হাসিনা বাংলাদেশ ছেড়ে চলে এসেছেন ভারতে। গতকালই প্রধানমন্ত্রী পদে ইস্তফা দিয়েছেন হাসিনা। প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে এসেছেন ভারতে। যদিও তিনি বিলক্ষণ জানেন, ভারতে বেশি দিন থাকতে পারবেন না। যতটা দ্রুত সম্ভব আশ্রয় নিতে হবে অন্য দেশে। কারন বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি দিল্লী চুক্তি সামনে রেখে হাসিনা কে ফেরত চায় তাহলে তাঁকে গ্রেফতার করে ফেরাতে হতে পারে ভারতকে। এদিকে একের পর এক দেশ হাসিনাকে আশ্রয় দিতে অপারগ বলে জানাচ্ছে।

গতকালই লন্ডন যেতে চেয়েছিলেন শেখ হাসিনা। কিন্তু ব্রিটেন সরকারের ছাড়পত্র মেলেনি। এদিকে আজ মার্কিন যুক্তরাষ্ট তার ভিসা খারিজ করে দিয়ে যেদেশে যাওয়ার পথ পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে চরম সঙ্কটের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী। অস্বস্তির মধ্যে রয়েছে ভারতও। কারন শেখ হাসিনাকে বেশিদিন সেফ হাউসে রাখা সম্ভব হবেনা দিল্লী চুক্তির কারনে।

দিল্লী চুক্তি বা ভারত বাংলাদেশ বন্দি বিনিময় চুক্তি কি?

দিল্লি চুক্তি ছিল একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি যা ভারত, পাকিস্তান এবং বাংলাদেশের মধ্যে ২৮ আগস্ট ১৯৭৩ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি প্রথমে শুধুমাত্র ভারত এবং পাকিস্তান কর্তৃক অনুমোদিত হয়। পরে সিমলা চুক্তির পর নয়াদিল্লিতে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এই চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ১৯৭১ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হলেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে ছিল না কোনও বন্দি বিনিময় চুক্তি। ফলে দুদেশের মধ্যে থাকা অনুপ্রবেশকারীদের নিজের নিজের দেশের বিচার ব্যবস্থার অধীনে আনা সম্ভব হত না। এই জটিলটা চলে প্রায় ৪৫ বছর। ২০১৩ সালে দুই দেশের মধ্যে বন্দি বিনিময় বা বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি সম্পাদিত হয়।

এখন এই চুক্তির মাধ্যমেই হাসিনাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠানোর দাবি উঠছে।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যাওয়া শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার করে বাংলাদেশে পাঠাতে ভারতের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ-ভারত বন্দি বিনিময় চুক্তি আছে। সেই চুক্তির আলোকে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে পাঠাতে হবে। তার কথায়, সব রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার নেতাকর্মীদের নির্বাহী আদেশে অনতিবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে। বিচারপতিরা শপথ ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেছেন, নেতাকর্মীদের সাজা দিয়েছেন, দুর্নীতি করেছেন ও অতি উৎসাহী হয়ে বিচার ব্যবস্থাকে দূষিত করেছেন, তারা বিচারক হওয়ার অনুপযুক্ত। এক সপ্তাহের মধ্যে তাদের পদত্যাগ করার আহ্বান জানান তিনি।

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্র শহিদদের জাতীয় বীরের মর্যাদার দাবি জানিয়ে বার সভাপতি বলেন, রাষ্ট্রকে নতুন করে সাজাতে হবে। সব লুটপাট করে দেশটাকে শেষ করে দিয়েছে আওয়ামী নেতারা। তারা যেন ব্যাংক থেকে কোনো টাকা উত্তোলন করতে না পারে সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি করেন তিনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর