দিল্লি হিংসা মামলায় সোমবার গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বহু প্রতীক্ষিত শুনানিতে উমর খালিদ এবং শারজিল ইমাম–এর জামিনের আবেদন খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে একই মামলায় অভিযুক্ত বাকি পাঁচ জনকে জামিন মঞ্জুর করে শীর্ষ আদালত। এই রায় ঘিরে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার ও বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চে উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের জামিনের আর্জির শুনানি হয়। দীর্ঘ যুক্তিতর্ক শোনার পর আদালত জানায়, বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁদের জামিন দেওয়ার মতো কারণ নেই। তবে আদালত এটাও স্পষ্ট করেছে, চাইলে উমর ও শারজিল অন্তত এক বছর পর ফের জামিনের জন্য আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি, মামলার সুরক্ষিত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ যদি তার আগেই শেষ হয়, তাহলে এক বছরের আগেও তাঁরা নতুন করে জামিনের আবেদন জানাতে পারবেন।


আদালত আরও জানায়, ভবিষ্যতে উমর ও শারজিল নতুন করে জামিনের আবেদন করলে তা সম্পূর্ণ নতুন হিসাবেই বিবেচিত হবে। সোমবারের এই রায় সেই সম্ভাব্য আবেদনের উপর কোনও প্রভাব ফেলবে না। অর্থাৎ, আইনি দরজা পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়নি—শুধু আপাতত সময় পিছিয়েছে।

রায়ের পর্যবেক্ষণে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে, ভারতীয় সংবিধানে ব্যক্তিস্বাধীনতার স্বীকৃতি রয়েছে ঠিকই, কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার প্রশ্নে সেই স্বাধীনতা সীমাহীন হতে পারে না। এই মামলায় উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের গুরুত্ব এবং মামলার বর্তমান পর্যায় বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানায় আদালত।
অন্যদিকে, এই মামলায় অভিযুক্ত গুলফিশা ফতিমা, মীরন হায়দার, শিফাউর রহমান, মহম্মদ শাকিল খান এবং শাদাব আহমেদ—এই পাঁচ জনের জামিন মঞ্জুর করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের বক্তব্য, এই পাঁচ জনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে, তা উমর ও শারজিলের অভিযোগের সঙ্গে এক নয়। ফলে সকল অভিযুক্তকে এক চোখে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগের প্রকৃতি ও ভূমিকার তারতম্য বিচার করেই তাঁদের জামিন দেওয়া হয়েছে।


এই রায়ের পর একদিকে যেমন উমর খালিদ ও শারজিল ইমামের আইনি লড়াই আরও দীর্ঘ হওয়ার ইঙ্গিত মিলল, তেমনই অন্য পাঁচ অভিযুক্তের মুক্তিতে মামলার গতিপ্রকৃতি নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।







