নজরবন্দি ব্যুরো: কালী পুজোতেই পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে এর বেশি প্রভাব পড়বে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া দফতর। সেইমতোই ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং অঞ্চলে মানুষকে সতর্ক করতে শুরু করল পুলিশ প্রশাসন। তাই আজ শুক্রবার সকাল থেকেই মাঝসমুদ্রে গিয়ে মাইকিং শুরু করেছে উপকূলরক্ষী বাহিনী৷ আগামী দু-তিন দিনে চরম দুর্যোগের আভাস আবহাওয়া দফতরের।
আরও পড়ুন: অনুব্রত ইচ্ছাতেই জেলে হবে ভাইফোঁটা, থাকবে বিশেষ মেনু, জানালো জেল কর্তৃপক্ষ
বঙ্গোপসাগরের উত্তর-পূর্ব উপকূলে সর্বশক্তি দিয়ে আছড়ে পড়তে চলেছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং। আসন্ন ঘূর্ণিঝড়ে মৎস্যজীবীদের সতর্ক করার কাজে জোরকদমে নেমেছে উপকূল রক্ষী বাহিনী। পাশাপাশি নদী উপকূল জুড়েও চলছে উপকূলরক্ষী বাহিনীর মাইকিং ও টহলদারি। সবকিছু সামাল দিতে নদী ও সমুদ্রযানের পাশাপাশি কোস্টগার্ড আকাশযানও ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রসঙ্গত, আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২২ অক্টোবর শনিবার নাগাদ আন্দামানের উত্তরে এবং পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগরের কাছে একটি নিম্নচাপ তৈরি হবে যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে শক্তিশালী হয়ে ২৪ অক্টোবর একটি ভয়ঙ্কর দুর্যোগের আকার নেবে। জোড়া সংকটের কারণে আজ শুক্রবার সকাল থেকে দক্ষিণ ২৪ পরগনার নামখানা, কাকদ্বীপ, সাগর, পাথরপ্রতিমা প্রভৃতি এলাকায় মানুষকে সতর্ক করার কাজ শুরু করেছে প্রশাসন।

আবহাওয়া দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশ উপকূলের দিকে এগিয়ে আসবে। বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ ছাপিয়ে জল ঢোকার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। যার মধ্যে রয়েছে মৌসুনি, ঘোড়ামারা, বঙ্কিমনগর, ঈশ্বরীপুর মুড়িগঙ্গা প্রভৃতি এলাকা। সেই কারণে সুন্দরবন উপকূল এলাকার প্রত্যেকটি ব্লক অফিসে কন্ট্রোল রুম খোলা থাকবে।
তীব্র হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় সিত্রাং, উপকূলবর্তীয় এলাকায় জারি সতর্কবার্তা

এছাড়াও, ব্লক অফিসে ও পঞ্চায়েত অফিসে ত্রিপল রাখার পাশাপাশি শুকনো খাবার মজুত রাখা হচ্ছে। এনডিআরএফ এবং এসডিআরএফ দলকে প্রস্তুত থাকতে বলেছে প্রশাসন। আবহাওয়া দফতরের তরফ থেকে ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পাওয়ার পরই ওড়িশা সরকরের পক্ষ থেকে উপকূলবর্তী জেলাগুলির প্রশাসনকে সতর্ক করে দেওয়া হয়। পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সমস্ত রকম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে। তাই আগামী ২২ থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত সবার ছুটি বাতিল করা হয়েছে এই সমস্ত জেলাগুলিতে।



