ভোটের আগেই আচমকা বড় রাজনৈতিক ঘটনা পশ্চিমবঙ্গে। রাজ্যপাল পদ থেকে ইস্তফা দিলেন সিভি আনন্দ বোস। বৃহস্পতিবার হঠাৎই তাঁর পদত্যাগের খবর সামনে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সূত্রের খবর, বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন আনন্দ বোস এবং সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন তিনি। ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বিস্ফোরক ইঙ্গিত দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা ৫৫ মিনিটের একটি ফ্লাইটে দিল্লি যান সিভি আনন্দ বোস। তার আগেই তাঁর দার্জিলিং যাওয়ার কর্মসূচি ঠিক ছিল এবং রাজ্যপাল দপ্তরের কয়েকজন আধিকারিক সেখানে পৌঁছেও গিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই পরিকল্পনা বদলে দিল্লি চলে যান তিনি। সেখান থেকেই রাষ্ট্রপতির উদ্দেশে পাঠানো হয় তাঁর পদত্যাগপত্র।


রাজভবন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে থেকেই তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে আলোচনা শুরু হয়েছিল। যদিও এই পদত্যাগের প্রকৃত কারণ নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।
কেরালায় জন্ম সিভি আনন্দ বোসের। তিনি ১৯৭৭ ব্যাচের আইএএস অফিসার। দীর্ঘ প্রশাসনিক জীবনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। কেরালার মুখ্যমন্ত্রীর সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি। প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার নিরিখে কেন্দ্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বেও ছিলেন আনন্দ বোস। ২০২২ সালের ১৭ নভেম্বর পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণা করা হয়।
আনন্দ বোসের পদত্যাগের পর এখন বড় প্রশ্ন—বাংলার নতুন রাজ্যপাল কে হবেন? সূত্রের খবর, তামিলনাড়ুর বর্তমান রাজ্যপাল আরএন রবি অস্থায়ীভাবে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপালের দায়িত্ব পেতে পারেন। যদিও এই বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি।


মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
রাজ্যপালের পদত্যাগের ঘটনায় ইতিমধ্যেই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘X’-এ একটি পোস্টে তিনি লেখেন, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের আচমকা পদত্যাগের খবর তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর দাবি, পদত্যাগের প্রকৃত কারণ এখনও তাঁর কাছে পরিষ্কার নয়।
তবে একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন রাজনৈতিক চাপের দিকেও। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি দেখে তিনি অবাক হবেন না যদি আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিশেষ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে রাজ্যপালকে চাপ দিয়ে থাকেন।
মুখ্যমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁকে জানিয়েছেন যে আরএন রবি পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিতে পারেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও আলোচনা করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেছেন তিনি।








