আগামী ২৭ জুলাই, শনিবার দিল্লিতে নীতি আয়োগের গভর্নিং কাউন্সিলের বৈঠক। সেই বৈঠকে যোগ দিতে আজ, শুক্রবার দিল্লির উদ্দেশ্যে রওনা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও তাঁর যাওয়ার কথা ছিল বৃহস্পতিবার। আচমকা তা পিছিয়ে যায়। রীতিমতো রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয় যে, মমতা নীতি আয়োগে যোগ দেবেন কিনা কারণ, ‘ইন্ডিয়া’ জোটের একাধিক মুখ্যমন্ত্রী এই বৈঠক বয়কট করেছেন। কিন্তু, তা হল না, তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সঙ্গে নিয়ে রাজধানীতে গেলেন মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই নীতি আয়োগে যোগদানকে কেন্দ্র করে কটাক্ষ করছে বামফ্রন্ট ও সিপিআইএম। তাঁদের বক্তব্য, মমতা আসলে বিজেপির বিরোধী নন, তিনি বিজেপির পক্ষেই। এবার ফের তা প্রমাণ হয়ে গেল বলেও দাবি করেছেন তাঁরা। কংগ্রেস নেতা সৌম্য আইচ বলেছেন, “উনি (পড়ুন মমতা) প্রথমে একরকম বলেন তারপর অন্যরকম করেন। আসলে মোদিকে তাঁর প্রয়োজন। নিজের রাজনৈতিক ফায়দার জন্যই নীতি আয়োগে গিয়েছেন তিনি।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সিপিআইএম নেতা জানিয়েছেন, “দিদি-মোদি সেটিং-এর কথা আমরা বলেছি। অনেকে মানেননি। কিন্তু প্রতিটি পদক্ষেপ দেখুন। উনি বাইরে থেকে ‘ইন্ডিয়া’ জোটে রয়েছেন বললেন। এবার নীতি আয়োগে গেলেন যেখানে জোটের কেউ যাচ্ছে না। আসলে, প্রকারন্তরে বিজেপিকে সুবিধা করে দিতেই চান এ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী।”
টালবাহানা করে নীতি আয়োগে গেলেন মমতা, ‘দিদি-মোদি সেটিং’ প্রমাণিত বলছে বাম-কং
বাজেটে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে নীতি আয়োগের বৈঠক বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কংগ্রেস নেতৃত্ব। তেলেঙ্গানার রেবন্ত রেড্ডি, কর্নাটকের সিদ্ধারামাইয়া, হিমাচল প্রদেশের সুখবিন্দর সিং সুখুর পাশাপাশি সিপিআইএম শাসিত কেরলের মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, ডিএমকে শাসিত তামিলনাড়ুর এমকে স্ট্যালিনও বৈঠকে যোগ দেবেন না। সেখানে ‘ইন্ডিয়া’ জোটের অন্যতম শরিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন গেলেন?

এর উত্তর নিজেই দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, ‘‘নীতি আয়োগের বৈঠকে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাজেট পেশের আগেই নিয়েছিলাম। কিন্তু সবাই মিলে আলোচনা করে যদি কোনও সিদ্ধান্ত হত, তা হলে অন্য কিছু ভাবতাম।’’ সঙ্গে তিনি আরও বলেছেন, ‘‘বৈঠকে কিছুক্ষণ থাকব। কিছু বলতে দিলে বলব। আর বলতে না-দিলে প্রতিবাদ করে বেরিয়ে আসব!’’



