নজরবন্দি ব্যুরোঃ মাত্র ১০ বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে সিপিআইএম তথা বামফ্রন্ট। ঠিক তাঁর আগেই বিধানসভা নির্বাচন ২০০৬ সালে ২৩৫ টি আসন জিতে শেষ বারের জন্যে ক্ষমতায় ফিরেছিল বামেরা। টানা ৭ বার। ৩৪ বছরের জমানা। সেই ৩৪ বছরের জমানা শূন্যতে পৌঁছে গেছে ২০২১ সালে। যার ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে সম্প্রতি ফলাফল বের হওয়া ৩টি উপনির্বাচনেও। এদিকে আবার আসন্ন উপনির্বাচন। এবার কার্যত ভোট ভিক্ষায় নামলেন সিপিআইএম নেতারা।
আরও পড়ুনঃ টানা বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত পাহাড়, ক্ষয়ক্ষতি খতিয়ে দেখতে উত্তরবঙ্গে যাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী।
খড়দায় বাম প্রার্থীর প্রচার করতে গিয়ে কার্যত ভোট ভিক্ষা করলেন সিপিআইএমের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য। বললেন, জ্যোতি বাবুর পার্টিকে একটা ভোট দিন। তাঁর কথায়, জ্যোতিবাবুর পার্টির একটা মুখকে অন্তত বিধানসভায় পাঠান, যদি ৩৪ বছরে একটা ভাল কাজ করে থাকে তাহলে সিপিআইএম কে ভোট দিন।” খড়দায় বামফ্রন্টের সিপিআইএম প্রার্থী দেবজ্যোতি দাসের সমর্থনে ভোট চাইতে গিয়ে একথা বলেন তন্ময়।
এদিকে জোট এখন ইতিহাস, সিপিআইএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি বলেছেন, ‘ভোট শেষ জোট শেষ’। তাই কার্যত একতরফা ভাবেই উপনির্বাচনের চার আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে সিপিআইএম। দিনহাটায় ফরওয়ার্ড ব্লকের আব্দুর রউফ, খড়দহে সিপিআইএমের দেবজ্যোতি দাস এবং গোসাবায় আরএসপি-র অনিলচন্দ্র মণ্ডল ভোট লড়বেন। গত বিধানসভা নির্বাচনে জোটের পক্ষে এই তিন আসনে বামেদেরই প্রার্থী ছিল। আর শান্তিপুরে প্রার্থী হয়েছিলেন কংগ্রেসের ঋজু ঘোষাল। তবে এ বার সিপিআইএম জানিয়ে দিয়েছে সেখানে দলের টিকিটে লড়বেন সৌমেন মাহাতো।
মাত্র ১০ বছরে রাজ্য থেকে অস্তিত্ব হারিয়েছে সিপিআইএম। সম্ভবর সেই কারনেই জ্যোতিবাবুর নামে ভত পাওয়ার চেষ্টা মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কিন্তু তাতে কি ভোট মিলবে? কিছুদিন আগেই ঘটে যাওয়া ভবানীপুর উপনির্বাচনের ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে বিজেপি প্রার্থী ৩ মাসে ব্যাবধানে ভোট খুইয়েছেন ১৩ শতাংশ, অন্যদিকে তৃণমূলের ভোট বেড়েছে ১৫%, কিন্তু ফায়দা তুলতে পারেনি বাম। ২০২১ বিধানসভায় কংগ্রেস প্রার্থী যত ভোট পেয়ে জামানত খুইয়েছিলেন, উপনির্বাচনে সিপিআইএম প্রার্থী শ্রীজীব বিশ্বাস তাঁর থেকেও কম ভোট পেয়েছেন।
জ্যোতি বাবুর পার্টিকে একটা ভোট দিন, বিধায়ক চেয়ে কাতর আবেদন সিপিআইএমের।

উল্লেখ্য, খড়দা কেন্দ্র, যেখানে দমদম উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তন্ময় ভট্টাচার্য জ্যোতিবাবুর পার্টির জন্যে ভোট ভিক্ষা করলেন সেই আসনে ৪ মাস আগে ঘটে যাওয়া বিধানসভা নির্বাচনেই প্রার্থী ছিলেন দেবজ্যোতিই। রাজ্যজুড়ে সিপিআইএমের যে কজন ভাল ভোট সংগ্রহ করেছিলেন তাঁর মধ্যে আছেন তিনিও। তৃতীয় হলেও ১৪ শতাংশের বেশি ভোট পেয়েছিলেন তিনি। এই আসনে জয়ী তৃণমূলের প্রয়াত কাজল সিনহা ভোট পেয়েছিলেন ৮৯ হাজার ৮০৭, বিজেপির শীলভদ্র দত্ত পেয়েছিলেন ৬১ হাজার ৬৬৭ ভোট এবং সিপিআইএমের দেবজ্যোতি দাস পেয়েছিলেন ২৬ হাজার ৯১৬ টি ভোট।



