করোনা গোপনে এসে চলে গেল? কি তার স্থায়ী প্রভাব! কিভাবে বুঝবেন?

করোনা গোপনে এসে চলে গেল? কি তার স্থায়ী প্রভাব! কিভাবে বুঝবেন?

নজরবন্দি ব্যুরোঃ করোনা গোপনে এসে চলে গেল? কি তার স্থায়ী প্রভাব! কিভাবে বুঝবেন? বিশ্বজুড়ে হুহু করে বাড়ছে করনা ভাইরাসের সংক্রমন। বিশ্বের সবথেকে সংক্রামিত দেশ হয়ে উঠতে চলেছে ভারত। করোনাভাইরাসের প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো জ্বর, স্বর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও শ্বাসকষ্ট। কিন্তু মুশকিল হল এখন যারা সংক্রামিত হচ্ছেন তাদের অনেকেই জানতেন না যে তারা সংক্রামিত! কিছু কিছু মানুষের শরীরে এই ভাইরাস বাসা বাঁধলেও কোনো লক্ষণ প্রকাশ পাচ্ছে না।

আরও পড়ুনঃ নিরাপদ অক্সফোর্ডের করোনা ভ্যাকসিন। ফেজ-৩ ট্রায়ালের অনুমতি দিল ICMR।

করোনাভাইরাস কিছু কিছু মানুষের শরীরে গোপনে আক্রমণ করে আবার গোপনেই চলে যায়। তবে আপনি কয়েকটি লক্ষণ দেখে বুঝতে পারবেন কোনো সময় করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কি না। কিন্তু প্রশ্ন হল করোনা কি পুরোপুরি চলে যায়? ইয়াহু নিউজের এক প্রতিবেদনে এমন কয়েকটি লক্ষণের কথা বলা হয়েছে। চলুন জেনে নেওয়া যাক-

আপনি যদি ঠাণ্ডা লাগা বা স্বর্দিতে আক্রান্ত হন; তাহলে আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। করোনার স্বর্দি আর সাধারণ স্বর্দির মধ্যে পার্থক্য খুবই কম। তবে এই ঠাণ্ডা লাগা বা স্বর্দির সঙ্গে যদি জ্বর, কাশি, শ্বাসকষ্ট, ক্লান্তি, পেশী বা শরীরব্যথা, মাথাব্যথা, স্বাদ বা গন্ধের ক্ষতি, গলাব্যথা, নাক দিয়ে পানি পড়া, বমি বমি ভাব, ডায়েরিয়া ইত্যাদি হয় তাহলে ধরে নিতে পারেন আপনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন।

পাশাপাশি গন্ধ, স্বাদ হারিয়ে ফেলা বা কমে যাওয়া করোনার একটি বড় লক্ষণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও এই লক্ষণটি সবার ক্ষেত্রে থাকে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ড. অ্যাডালজা জানিয়েছেন, স্বাদ হারিয়ে ফেলা করোনার সঙ্গে দৃঢ়ভাবে যুক্ত। আমেরিকান একাডেমি অব ওটোলারিঙ্গোলজি-হেড অ্যান্ড নেক সার্জারির প্রাথমিক তথ্যতে দেখা গেছে যে, করোনা রোগীদের গন্ধ অনুভূতি হারাতে থাকা ২৭ শতাংশ রোগী গড়ে সাত দিনের মধ্যেই কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠেন। তবে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই রোগীরা ভালো হয়ে যান ১০ দিনের মধ্যে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গন্ধ অনুভূতি বা স্বাদ হারিয়ে যাওয়ার লক্ষণটি কিছু রোগীর মধ্যে দীর্ঘদিন থাকতে পারে। করোনা মুক্তির পর কয়েকমাসও এটি থাকতে পারে।

করোনা গোপনে এসে চলে গেল? কি তার স্থায়ী প্রভাব! করোনার থাবা থেকে মুক্ত হওয়ার পর অনেকেরই চুল পড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে বলা হয়। করোনা জয়ী অনেকেই এমন তথ্য জানিয়েছেন। করোনার জয়ের পর অস্বাভাবিকভাবে বেশি চুল পড়তে পারে। অভিনেত্রী অ্যালিসা মিলানো কয়েক মাস ধরে করোনার উপসর্গে ভুগছিলেন। আগস্টের গোড়ার দিকে নিজের একটি ভিডিওয় চুল পড়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন তিনি এটি টেলোজেন এফ্লুভিয়াম হিসেবে পরিচিত এক অবস্থার জন্য চুল পড়ে যেতে পারে। গর্ভাবস্থা, চরম মানসিক চাপ, ওজন হ্রাস, করোনাসহ অনেকগুলো কারণেই চুল পড়ে হতে পারে বলে জানিয়েছেন মার্কিন চিকিৎসক ডা. অ্যাডালজা।

জ্যামা (জেএএমএ) জার্নালে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা গেছে, করোনার মুক্ত মানুষদের মধ্যে শ্বাসকষ্টসহ ভাইরাসের প্রভাব থাকতে পারে। এটি কতো দিন স্থায়ী হতে পারে তা পরিষ্কারভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে ফুসফুসের দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে ঘটে। মার্কিন চিকিৎসক ডা. শ্যাফনার বলেছেন, আপনার যদি এমনটা হয় তবে ভালো। সম্ভবত আগে আপনি যে অসুস্থতার অভিজ্ঞতা পেয়েছিলেন তা ছিল করোনার। এরকম হলে তিনি দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।

করোনার আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর কাশিও থেকে যেতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী কাশিও গোপনে করোনা থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার লক্ষণ। ড. অ্যাডালজা বলেছেন, কাশি প্রায়শই শুষ্ক থাকে যার অর্থ কফ বা শ্লেষ্মার মতো কিছুই আসে না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসি জানিয়েছে, করোনা মুক্ত হয়ে যাওয়ার পর ১৪ থেকে ২১ দিন পর্যন্ত কাশি থেকে যেতে পারে। সুস্থ হয়ে যাওয়া ৪৩ শতাংশ মানুষের এমন হচ্ছে। জ্যামা স্টাডি অনুসারে, কোনো ব্যক্তির করোনা হওয়ার পরে এটি সবচেয়ে বড় স্থায়ী প্রভাবগুলোর মধ্যে একটি। এই সমীক্ষায় দেখা গেছে যে ৫৩ শতাংশ রোগী জানিয়েছেন, তারা প্রথমবার ভাইরাসের লক্ষণগুলো দেখানোর প্রায় ৬০ দিন পর পর্যন্ত ক্লান্তি থকে যায়।

ড. অ্যাডালজা বলেছেন, আমরা এমন কিছু মানুষকে দেখছি যাদের হালকা অসুস্থতা ছিল। কিন্তু অনেক সময়ের জন্য ক্লান্তি ছিল। তবে এমনটা কেন হচ্ছে সেই বিষয়ে পুরোপুরিভাবে কিছুই জানা যাচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, ক্লান্তি আসলে একটি সাধারণ সমস্যা। একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যার লক্ষণ হতে পারে এটি (অবশ্যই, পর্যাপ্ত ঘুম না পাওয়াসহ)। চুল পড়ার মতো, যেসব মানুষ করোনার কারণে ক্লান্তি অনুভব করে তাদেরও অতীতে ভাইরাসের অন্যান্য লক্ষণ দেখা যেত বলে জানিয়েছেন ড. অ্যাডালজা।

করোনাভাইরাস থেকে সুস্থ হয়ে যাওয়ার পর কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ সারা জীবন থেকে যেতে পারে। ডা. অ্যাডালজা বলেছেন, ভাইরাসের স্থায়ী প্রভাব নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে উল্লেখ করার মতো বিষয় হল, ভাইরাস সংক্রমণের পরে কিছু মানুষ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়েছেন। জ্যামা কার্ডিওলজিতে প্রকাশিত এক নিবন্ধের বরাত দিয়ে ইয়াহু নিউজ বলছে, করোনার মুক্ত ১০০ জনকে নিয়ে একটি ছোট্ট গবেষণা করা হয়। এসময় প্রাক্তন রোগীদের ওপর এমআরআই করা হয়েছিল। তখন দেখা গেছে, ৭৮ শতাংশ মানুষের কোনো ধরনের আস্বাভাবি হৃদ রোগ ছিল না। অথবা পূর্ব যা ছিল তার চেয়েও আলাদা। এই বিষয়টি অসুস্থতার তীব্রতার সঙ্গে যুক্ত বলে মনে হয়নি গবেষকদের। ডা. শ্যাফনার বলেছেন, করোনা মুক্তর পর এলোমেলো হৃদস্পন্দন সহ বিভিন্ন সমস্যা থাকতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x