নজরবন্দি ব্যুরোঃ ভারতে শুরু অক্সফোর্ড টিকার চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল। মাত্র ষাট দিনের অপেক্ষা আর। রিপোর্ট প্রকাশ করে ভ্যাক্সিনের সুখবর আগেই দিয়েছে অক্সফোর্ড। বহু কাঙ্খিত প্রতীক্ষার ফলাফল সামনে এসেছে। আর এবার ভারতের জন্যেও এল অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন সংক্রান্ত সুখবর। দেশে অক্সফোর্ডের ‘ভ্যাকসিনের’ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হবে মানবদেহে। আগামিকালই ট্রায়াল হওয়ার সম্ভাবনা অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের তৈরি করোনা প্রতিষেধক ‘কোভিশিল্ড’-এর তৃতীয় তথা শেষ দফার। আর সেটা হতে চলেছে ভারতে।
আরও পড়ুনঃ ক্ষুদিরামের অপমানে ক্ষুব্ধ বাঙালি। ZEE-5 কে আইনি নোটিশ
ভারতে শুরু অক্সফোর্ড টিকার চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল। সেন্ট্রাল ড্রাগ স্ট্যান্ডার্ড কন্ট্রোল অর্গানাইজেশন(CDSCO) জানিয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট ভারতীয় সেচ্ছাসেবকদের ওপর অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিনের শেষ তথা তৃতীয় পর্যায়ের ট্রায়াল চালাবে। ভারতীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে অনুমতি দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রের খবর ট্র্যায়ালের ২ মাস পর দেখা হবে অক্সফোর্ডের এই ভ্যাকসিন কতটা কার্যকর। আর যদি সব ঠিক থাকে তাহলে এই টিকা দেশবাসীর উপর প্রয়োগের ছাড়পত্র দেবে কেন্দ্র।
ভারতের ১০টি এলাকায় ১ হাজার ৬০০ জনের উপরে এটি প্রয়োগ করা হবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে খবর, ১৮ থেকে ৫০ বছর বয়সি সুস্থ এবং সম্পূর্ণ রোগহীন স্বেচ্ছাসেবকদের দু’দফায় ওই টিকা দেওয়া হবে। এ জন্য চোদ্দো দিন তাঁদের ২৪ ঘন্টা আইশোলেসনে রাখা হবে। পাশাপাশি পর্যবেক্ষণে রাখা হবে ২ মাস।উল্লেখ্য করোনা ভ্যাক্সিন নিয়ে কয়েকদিন আগেই সুখবর দিয়েছে অক্সফোর্ড।
‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নাল জানিয়েছে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাকসিন ChAdOx1 মানবশরীরের পক্ষে নিরাপদ এবং করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম। দাবি করা হয়েছে এই ভ্যাক্সিনের প্রথম ডোজেই ৯০ শতাংশ মানুষের শরীরে অ্যান্টিবডি তৈরী হয়েছে। ল্যানসেট জার্নাল জানিয়েছে, ১০৭৭ জন স্বেচ্ছাসেবককে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। প্রায় প্রত্যেকের শরীরেই T-Cell সক্রিয় হয়েছে এবং পর্যাপ্ত অ্যান্টিবডি তৈরি হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ের ট্রায়ালের রিপোর্ট দেখে ইতিমধ্যেই দশ কোটি ভ্যাকসিনের অর্ডার দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।
অক্সফোর্ডের এই ভ্যাক্সিনের দিকে তাকিয়ে ছিল সারা পৃথিবী। ‘দ্য ল্যানসেট’ মেডিক্যাল জার্নাল অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির তৈরি ভ্যাকসিন ChAdOx1 মানবশরীরের পক্ষে নিরাপদ এবং করোনা প্রতিরোধী অ্যান্টিবডি তৈরি করতে সক্ষম বলে জানানোর পর কিছুটা হলেও ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়েছে বিশ্ববাসীর। তবে এখনই টিকা সফল সেই দাবি করা হয়নি। এখনও চালানো হবে বেশ কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে সফল ভাবে কাজ করেছে টিকা। নিরাপদ ভাবে মানব দেহে তৈরি হয়েছে অ্যান্টি বডি।



