নজরবন্দি ব্যুরো: ভাঙছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, একের পর এক জায়গায় শেষ হয়ে গিয়েছে অক্সিজেন। চোখের সামনে দাঁড়িয়ে চিকিৎসকেরা দেখছেন থেমে যাচ্ছে একের পর এক রোগীর নিশ্বাস। হাহুতাশ করছেন রোগীর পরিবার পরিজনেরা। সমস্ত চেষ্টারও পরেও কোনোভাবেই লাগাম টানা যাচ্ছেনা সংক্রমণে। প্রথম ঢেউ কোনোভাবে সামলে নিলেও, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এর ধাক্কায় দিশেহারা দেশের প্রশাসন থেকে চিকিৎসক মহল।
আরও পড়ুনঃ তৃণমূল নেতাদের অক্সিজেনের অভাব পড়লে দায় BJP’র নয়, মন্তব্য দিলীপের


কোন কোন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রের কাছে হাত জোড় করছেন অক্সিজেনের জন্য। কোথাও ভ্যাকসিনের জন্য রাজ্যবাসী নিজেরাই টাকা তুলে দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর হাতে। দিল্লির পার্কিং লটেও জমে উঠছে মৃতদেহের স্তূপ। সব মিলিয়ে সেকেন্ড ওয়েভ জেরবার ভারত।
লাগামহীনভাবে বাড়তে শুরু করেছে দেশের দৈনিক আক্রান্তের সংখ্যা। টানা তিন দিনের পর আজ চতুর্থ দিন, নিজের পুরনো রেকর্ড ভেঙে রেকর্ড তৈরি করলো ভারতের সংক্রমণের তালিকা। ২৪ এপ্রিলের স্বাস্থ্য দফতরের রেকর্ডে বলা হয়েছিল, গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা সংক্রমণে ফের নতুন রেকর্ড গড়ল ভারত।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৪৯,৬৯১ জন। অপর দিকে ২৪ ঘন্টায় দেশে করোনা থেকে মুক্ত হয়েছেন ২,১৭,১১৩ জন। এই মুহূর্তে দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,৬৯,৬০,১৭২ জন। মোট মৃতের সংখ্যা ১৯২৩১১ জন। দেশে একদিনে সুস্থ হয়ে উঠেছে ২,১৭,১১৩। দেশে মোট সুস্থ হয়ে উঠেছে ১,৪০,৮৫,১১০। দেশে এখনও পর্যন্ত ভ্যাকসিন নিয়েছে ১৪,০৯,১৬,৪১৭।


উল্লেখ্য রাজধানী দিল্লি, মহারাষ্ট্র, পঞ্জাব, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, তেলেঙ্গনা, তামিলনাড়ু, ছত্তীসগড়, পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে চোখ রাঙাচ্ছে করোনা। প্রতিদিন হাজার-হাজার মানুষ নতুন করে সংক্রমিত হচ্ছেন। রাজ্যে-রাজ্যে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে করোনা রোগীদের উপচে পড়া ভিড়। হাসপাতালগুলিতে আইসিইউ বেডের আকাল। অক্সিজেনের ভান্ডার নিঃশেষ হওয়ার পথে।
ভাঙছে স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, এই অবস্থায় করোনা মোকাবিলায় দেশজুড়ে টিকাকরণে গতি বাড়াতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। আগামী ১ মে থেকে দেশের ১৮ বছর বয়সে উপরে প্রত্যেককে করোনা টিকা দেওয়া শুরু হতে চলেছে। ইতিমধ্যে বাংলা এবং কেরলের মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন প্রাপ্ত বয়স্ক সকলকে বিনামূল্যে টিকা দেবে সরকার।







