নজরবন্দি ব্যুরো: বালেশ্বর রেল দুর্ঘটনা ঘিরে মোদি সরকারের সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার মমতাকে নিশানা করেছেন প্রাক্তন রেলমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিনেশ ত্রিবেদী। উত্তরাখণ্ডের নৈনিতাল থেকে দিনেশ ত্রিবেদী বোমা ফাটিয়েছেন মমতার বিরুদ্ধে।


প্রাক্তন রেলমন্ত্রীর কথায়, ‘যদি মমতা বলেন যে দাল মে কুছ কালা হ্যায় ,তাহলে বলব চোখে কালো চশমা পরলে তো সবকিছু কালো দেখাবে।‘ তৃণমূলের সাংসদ থাকাকালীন রেলমন্ত্রী হয়েছিলেন দিনেশ ত্রিবেদী। ২০১২ সালে রেল বাজেটে ভারা বৃদ্ধির ইস্যুতে তাঁকে মন্ত্রিত্বের পদ খোয়াতে হয়। ২০১৯ সালের লোকসভা ভোট হেরে যান এবং ২০২১ সালে তিনি পদ্ম শিবিরে নাম লেখান।

দিনেশের কথায়, দেশের সুরক্ষার বিষয়, ‘এখন রাজনীতি করবেন না।‘ প্রসঙ্গত, বালেশ্বরে ট্রেন দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৮। আহত হাজার খানেক। এরই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বেওয়ারিশ লাশের সংখ্যা। এখনও চিহ্নিত হয়নি ১০১ টি মৃতদেহ। মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে গত সোমবারই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।



ইতিমধ্যে অন্তর্ঘাতের তত্ত্ব উঠে এসেছে। ফলে রেলমন্ত্রক সিবিআই-এর হাতে তদন্তভার তুলে দিয়েছে। ইতিমধ্যে গোয়েন্দা সংস্থা দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত শুরুও করে দিয়েছে। রাজনৈতিক এই চাপানউতোরের মাঝেই প্রাক্তন রেলমন্ত্রী দিনেশ ত্রিবেদী মমতাকে খোঁচা মেরে বলেছেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় খুবই সিনিয়র নেত্রী। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি কি বলতে পারি। শুধু এটুকু বলতে পারি যখন দেশের সুরক্ষার প্রশ্ন আসে ওইসময় সম্ভবত রাজনীতি করা উচিত নয়। রাজনীতির জন্য অনেক সময় পাওয়া যাবে। এই দেশ অনেক বড়,অনেক সময় পাওয়া যাবে। কিন্তু যখন দেশের সুরক্ষার বিষয় রয়েছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হোক, বা অন্য কেউই হোক, এই সময় আপনি যদি চিতা নিয়ে রাজনীতি করেন , সেটা উচিত নয়।‘
এই সময় আপনি যদি চিতা নিয়ে রাজনীতি করেন , সেটা উচিত নয়, মমতাকে নিশানা দিনেশের

দুর্ঘটনায় অন্তর্ঘাতের প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন,’আজ যখন রেলের আধিকারিকরা বলছেন আমরা জানতে পেরেছি এই দুর্ঘটনা কীভাবে হল এবং কেন হল। আর এটা অপরাধের দিকে ইঙ্গিত করছে।তাহলে, ব্যাপারটা বুঝুন। যতক্ষণ পুরো রিপোর্ট না আসছে , তাঁরা বলবেন না, এটাই হওয়া উচিত। কিন্তু ইঙ্গিত কোন দিকে। ইশারা এই দিকে যে দেশের বিরুদ্ধে বড় ষড়যন্ত্র হয়তো করা হচ্ছিল। যারা এই ষড়যন্ত্র করেছে , তাঁদের হয়তো আরও লোককে মারার পরিকল্পনা ছিল।‘দিনেশ ত্রিবেদীর কথাতে,’আমাদের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘দোষী যেই হোক, তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।‘
রেল দুর্ঘটনার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ কংগ্রেস, বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতিশ কুমার প্রমুখেরা কেন্দ্রের সমালোচনায় সরব হয়ে উঠেছে। কেন্দ্র সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু বিষয় হচ্ছে গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এমনিতেই তদন্তের পাহাড় প্রমাণ চাপ রয়েছে। ফলে এই তদন্তের প্রক্রিয়া মাঝপথে থমকে যাবে না তো এটা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েই যাচ্ছে।







