নজরবিন্দ ব্যুরো: অবশেষে প্রায় ৩২ ঘণ্টা যুদ্ধকালীন তৎপরতায় শেষ হয়েছে বালেশ্বরে দুর্ঘটনাস্থলের উদ্ধারকাজ। বর্তমানে এখন চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ। দুর্ঘটনাস্থল থেকে দুমড়ে-মুচড়ে যাওয়া কামরাগুলি সরানো হচ্ছে। এদিকে, করমণ্ডলে প্রায় কয়েক হাজার যাত্রী ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ওড়িশার হাসপাতালে ভর্তি ১১০০-রও বেশি যাত্রী। সঙ্কটজনক অবস্থায় রয়েছেন অনেকেই। অন্যদিকে, যাদের পরিবারের লোকজনেরা ওই এক্সপ্রেসে ছিলেন, তাদের খোঁজ চালাচ্ছেন অনেকেই। বাংলাদেশেরও অনেকজন যাত্রী ছিলেন ওই ট্রেনে। তাঁদেরও খোঁজ করছে বাংলাদেশ কমিশন।


এহেন পরিস্থিতিতে রেল দুর্ঘটনায় আহতদের খোঁজ পেতেই ওড়িশা সরকারের তরফে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিহতদের জন্য ক্ষতিপূরণের ঘোষণা করলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী। আজ ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়েক ঘোষণা করলেন যে, বালেশ্বরের দুর্ঘটনায় যারা প্রাণ হারিয়েছেন, তাদের পরিবার পিছু ৫ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। পাশাপাশি গুরুতর আহত হয়েছেন যারা, তাদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এদিকে, এদিন ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রীও।

জানা যাচ্ছে, এদিন বালেশ্বরের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে পৌঁছান কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। বালেশ্বরের দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পরেই আহতদের দেখতে বালেশ্বরের হাসপাতালে যান কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তিনি বলেন, “দুর্ঘটনার পর সমস্ত ব্যবস্থাই করা হয়েছে। আমি বলছি না যে কোনও ব্যবস্থা করা হচ্ছে না। তবে এই তৎপরতা যদি আগে থেকে দেখানো হত, তবে এই ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতই না।” প্রসঙ্গত, শুক্রবার রাত বিভীষিকাময়! মুহূর্তের মধ্যেই সব তছনছ! শয়ে শয়ে মানুষ প্রাণ হারাল। শুধুটাই নয়, বর্তমানে আহতের সংখ্যা ৯০০। ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুর্ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।



ইতিমধ্যেই সামনে এসেছে দুর্ঘটনার কারণ! রেলের পক্ষ থেকে প্রাথমিক তদন্তে দাবি, সিগন্যালের ত্রুটির কারণেই ওড়িশায় ট্রেন দুর্ঘটনা! জানা গিয়েছে, শনিবার বিকেলে রেলের তরফে একটি যৌথ পরিদর্শন রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়ে। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ওই যৌথ রিপোর্টে সিগন্যালের ত্রুটির কথাই উল্লেখ্য করা হয়েছে। তবে এটি রেলের তদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট। এটি বিস্তারিত তদন্তের পরেই দুর্ঘটনার কারণ আরও স্পষ্ট হবে বলে জানান রেল আধিকারিকরা।
শেষ উদ্ধারকাজ, নিহতদের ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মুখ্য়মন্ত্রীর
রেলের পক্ষ থেকে যৌথ পরিদর্শন রিপোর্টে বলা হয়েছে, “আপ মেন লাইনে সবুজ সিগন্যাল দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আপ লাইনে ঢোকেইনি ট্রেনটি। ওই ট্রেন ঢুকেছিল লুপ লাইনে। আর সেখানেই আগে থেকে দারিয়েছিল একটি মালগাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল। এরপরেই ওই দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির সঙ্গে সংঘর্ষে করমণ্ডল এক্সপ্রেসটি লাইনচ্যুত হয়। আর এর মাঝেই অন্যদিক থেকে ডাউন লাইন দিয়ে বালেশ্বরের দিকে যাচ্ছিল বেঙ্গালুরু-হাওড়া সুপারফাস্ট এক্সপ্রেস। সেই ট্রেনটিরও দু’টি বগি এই ঘটনার জেরে লাইনচ্যুত হয়।” তবে মেন লাইনে সিগন্যাল পাওয়া সত্ত্বেও করমণ্ডল এক্সপ্রেস কী ভাবে লুপ লাইনে ঢুকে পড়ল, তা এখনও স্পষ্ট নয়








