রাতভর প্যান্ডেল হপিং শেষ, জেলায় জেলায় ফিরল কন্টেনমেন্ট জোন, সাথে নাইট কার্ফু।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

নজরবন্দি ব্যুরোঃ গতবছরের মত এই বছরেও দুর্গা পুজোতে জারি ছিল একাধিক বিধি নিষেধ। কিন্তু গতবছরের ভিড় আর এবারের ভিড়ের তফাত ছিল যোজনের দূরত্বে। কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় করেছিলেন মণ্ডপে মণ্ডপে। ৫ দিন রাতভর প্যান্ডেল হপিং শেষ করে মানুষ যখন বাড়ি ফিরলেন তখন অক্সিজেন পেল করোনা ভাইরাস। শুরু করল তাণ্ডব। পুজো শেষে হুহু করে বাড়ল সংক্রমনের গতি।

আরও পড়ুনঃ গতকালের থেকে কম টেস্টেও বাড়ল আক্রান্তের সংখ্যা, ৫ টি জেলা নিয়ে বাড়ছে উদবেগ।

আর সেই সংক্রমনের গতি এমনই যে তাঁকে প্রতিহত করতে কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হল আবার। সাথে শুরু করা হল নাইট কার্ফু। বিভিন্ন জেলায় জেলায় বাড়ান হয়েছে কড়াকড়ি। কোথাও আবার মাস্ক না পরলে বা করোনা বিধি না মানলে গ্রেফতার করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে তৃতীয় ঢেউ কড়া নাড়ছে বাংলায়। সব থেকে বেশি সংক্রমণ ছড়িয়েছে কলকাতায়। তারপরেই আছে উত্তর ২৪ পরগণা।

খুব একতা পিছিয়ে নেই হাওড়া-হুগলি মালদহ, নদিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, উত্তর দিনাজপুর, পশ্চিম বর্ধমান ও দার্জিলিং জেলা। গতকালের বুলেটিন অনুযায়ী, কলকাতায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২৭৩ জন, মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। উত্তর ২৪ পরগণা জেলাতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৪৬ জন, মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। হুগলী জেলাতে ৮৯ জন আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এর পরেই আছে হাওড়া। ২৪ ঘন্টায় হাওড়া জেলাতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩ জন। দক্ষিণ ২৪ পরগনায়। নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৭৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।

রাতভর প্যান্ডেল হপিং শেষ, জেলায় জেলায় ফিরল কন্টেনমেন্ট জোন

রাতভর প্যান্ডেল হপিং শেষ, জেলায় জেলায় ফিরল কন্টেনমেন্ট জোন
রাতভর প্যান্ডেল হপিং শেষ, জেলায় জেলায় ফিরল কন্টেনমেন্ট জোন

সংক্রমণ ঠেকাতে আলিপুর (সদর), বারুইপুর, ক্যানিং, ডায়মন্ড হারবার ও কাকদ্বীপ – এই পাঁচটি মহকুমার ১৩টি থানা এলাকায় মোট ৪২টি মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। আছে রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার দশটি ওয়ার্ডের ১৯টি এলাকা। মহেশতলা পুরসভার ১৪ ও ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের দু’টি এবং ডায়মন্ড হারবার পুরসভার ৪ ও ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দু’টি এলাকাকে মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। বিধাননগর এলাকায় রয়েছে ১৩টি কনটেনমেন্ট জোন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বারাসত এবং বারাকপুর মহকুমা এলাকা এবং হাওড়া জেলার শহরাঞ্চলে একাধিক মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে।

এছাড়াও বারুইপুর ব্লকের হরিহরপুর গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় একটি, জয়নগর ২ নম্বর ব্লকের গড়দোয়ানি ও শাহাজাদাপুর পঞ্চায়েতের চারটি, ক্যানিং ১ নম্বর ব্লকের বাঁশড়া ও তালদি পঞ্চায়েতের দু’টি, ক্যানিং ২ নম্বর ব্লকের সারেঙ্গাবাদ, দেউলি-২, নারায়ণপুর, তাম্বুলদহ-২ পঞ্চায়েতে ছ’টি, ডায়মন্ডহারবার ১ নম্বর ব্লকের বোলসিদ্ধি-কালীনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের একটি, মগরাহাট ১ নম্বর ব্লকের হরিহরপুর পঞ্চায়েতে একটি, ফলতায় একটি, কাকদ্বীপ ব্লকের রামকৃষ্ণ ও ঋষি বঙ্কিম পঞ্চায়েতের দু’টি এবং নামখানা ব্লকের হরিপুর পঞ্চায়েতের একটি এলাকায় ঘোষণা করা হয়েছে কনটেনমেন্ট জোন।

যে যে জায়গায় মাইক্রো কনটেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে সেই এলাকায় বসছে পুলিশ পিকেটিং। থাকছে কঠোর কোভিড বিধি। বিনা কারনে ঘরের বাইরে বেরলেই খেতে হবে পুলিশের তাড়া। হোটেল বা খাওয়ারের দোকান বন্ধ করতে হবে রাত ১০ টার মধ্যে। সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে চলবে মাইকে প্রচার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত