ভোটের কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে, কিন্তু প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় দেরি নিয়ে বাড়ছিল প্রশ্ন। অবশেষে সেই জল্পনায় ইতি টেনে জানাল Indian National Congress—বাংলার ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৮৬টিতেই প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত। বাকি ৮টি আসনে চলছে শেষ মুহূর্তের আলোচনা। কেন এই দেরি? সামনে এল তারই রাজনৈতিক ব্যাখ্যা।
কী জানাল কংগ্রেস নেতৃত্ব
নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বৈঠকের পর বাংলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা Ghulam Ahmed Mir জানান—
- মোট ২৯৪টি আসনে একাই লড়বে কংগ্রেস
- প্রায় ২৫০০ আবেদন জমা পড়েছে
- ৮টি আসন ছাড়া বাকি সব আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত
তিনি আরও জানান, খুব শীঘ্রই এআইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে তালিকা প্রকাশ করবে।
দেরির আসল কারণ
প্রার্থী বাছাইয়ে এই দেরির পেছনে রয়েছে একাধিক কারণ—
১. অতিরিক্ত আবেদন:
২৫০০-এর বেশি আবেদন থেকে উপযুক্ত প্রার্থী বেছে নেওয়া সহজ নয়।
২. ভারসাম্য রক্ষা:
অভিজ্ঞ ও নতুন মুখ—দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় করতে চাইছে দল।
৩. গুরুত্বপূর্ণ আসনে দ্বন্দ্ব:
শেষ ৮টি আসনে প্রার্থী নির্বাচন নিয়ে মতভেদ রয়েছে বলেই সূত্রের খবর।
বড় নেতাদের ময়দানে নামার ইঙ্গিত
এই নির্বাচনে বর্ষীয়ান নেতাদের ভূমিকা নিয়েও জোর জল্পনা। Adhir Ranjan Chowdhury-সহ একাধিক অভিজ্ঞ নেতা এবার বিধানসভা নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন বলে ইঙ্গিত মিলেছে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি কিছু বলেননি গুলাম আহমেদ মীর, তবে তাঁর মন্তব্য—“বর্ষীয়ান প্রায় সব নেতাই লড়বেন”—জল্পনাকে আরও উস্কে দিয়েছে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
- ২০১১ সালে All India Trinamool Congress-এর সঙ্গে জোট করে বাম শাসনের অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় কংগ্রেস
- ২০১৬ ও ২০২১-এ বামেদের সঙ্গে জোট
- এবার একাই লড়ার সিদ্ধান্ত
এই পরিবর্তিত কৌশলেই নতুন করে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করতে চাইছে কংগ্রেস।
প্রার্থী তালিকা ঘোষণায় দেরি হলেও, কংগ্রেস এখন পূর্ণ শক্তি নিয়ে মাঠে নামার প্রস্তুতিতে।শেষ ৮টি আসনের সমীকরণ মিটলেই পরিষ্কার হবে পুরো চিত্র—আর তাতেই নির্ধারিত হবে বাংলার নির্বাচনী লড়াইয়ে কংগ্রেসের আসল অবস্থান।



