খারাপ ইঙ্গিত জানিয়ে বিজয়নের পথেই গোষ্ঠী সংক্রমনে শিলমোহর চিকিৎসকদের।

খারাপ ইঙ্গিত জানিয়ে বিজয়নের পথেই গোষ্ঠী সংক্রমনে শিলমোহর চিকিৎসকদের।

নজরবন্দি ব্যুরোঃ খারাপ ইঙ্গিত জানিয়ে বিজয়নের পথেই গোষ্ঠী সংক্রমনে শিলমোহর চিকিৎসকদের। গতকাল কেরলের মুখ্যমন্ত্রী দেশের প্রথম মুখ্যমন্ত্রী বা শাসক হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন কেরলে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে। এবার সেই পথেই হাঁটতে চলেছে পুরো দেশ। শুক্রবার মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন তিরুঅনন্তপুরমের চারটি এলাকাকে চিহ্নিত করে জানিয়েছেন, সংক্রমণের হারে এসব জায়গা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে এই এলাকাগুলি। তিরুঅনন্তপুরমের চারটি অঞ্চল যা হল পুল্লুভিলা, পুনথুরা, আঞ্চুথেঙ্গু এবং পুথুক্কুরিশি। এই এলাকাগুলিতে যে হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাকে গোষ্ঠী সংক্রমণের অ্যাখ্যা দিতেই হচ্ছে। এখানে সংগৃহীত নমুনা পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছেন, অর্ধেক মানুষই করোনা পজিটিভ। তবে প্রশাসন আন্তরিক ভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে বলে জানিয়েছেন বিজয়ন।

আরও পড়ুনঃ রাজ্যের এই এলাকায় ফের ৭ দিন বাড়ছে কঠোর লকডাউন।

দেশের সর্ববৃহৎ চিকিৎসক সংগঠন, ইন্ডিয়ান মেডিক্যল আসোসিয়েশন দ্যার্থহীন ভাষায় জানিয়ে দিল দেশ জুড়ে শুরু হয়েছে গোষ্ঠী সংক্রমণ। ইন্ডিয়ান মেডিক্যল আসোসিয়েশন হাসপাতাল বোর্ডের চেয়ারম্যান ডক্টর ভিকে মোংগা বলছেন, “প্রতিদিন ৩০ হাজারের বেশি মানুষ সংক্রমিত হচ্ছেন। এটা এখন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। খুব খারাপ ইঙ্গিত। গ্রামাঞ্চলের সংক্রমণের হার দেখে বলতেই হচ্ছে, এবার গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে।”

ইন্ডিয়ান মেডিক্যল আসোসিয়েশন এর পশ্চিমবঙ্গের সভাপতি ডাক্তার শান্তনু সেন বলেছেন, “বাংলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চল রয়েছে, যেখানে আগে করোনা ছিল না। সম্প্রতি পুরুলিয়া, ঝাড়গ্রামের মতো বহু জেলায় তা বাড়ছে। এটা চিন্তারই বিষয়। কেন্দ্র বারবার গোষ্ঠী সংক্রমণের কথা অস্বীকার করছে। সংক্রমণ রুখতে বাংলাকে কোনও সাহায্য করছে না। তবু কেন্দ্রের সাহায্য ছাড়াই বাংলা করোনা যুদ্ধে অনেকটা এগিয়ে। দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলার মৃত্যুর হার অনেক কম।”

অন্যদিকে দেশের সবথেকে বড় মেডিক্যল আসোসিয়েশন এই দাবি করায় চিন্তায় পড়েছে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক। দিনে ৪০ হাজার ছুঁই ছুঁই সংক্রমণ হলেও এখনও সরকারি ভাবে কেন্দ্রের তরফে স্বীকার করা হয়নি দেশে গোষ্ঠী সংক্রমণ শুরু হয়েছে বলে। অন্যদিকে পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়ার প্রেসিডেন্ট অধ‌্যাপক কে শ্রীনাথ রেড্ডি এদিন ব্যাপক সমালোচনা করেছেন কেন্দ্রের। তিনি জানিয়েছেন, “এই ব্যাপক হারে করোনা সংক্রমণ ছড়ানোর আগে আটকাতে পারতাম আমরা, তা আটকানো উচিত ছিল। দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এখন আমাদের উচিত সবচেয়ে ভাল করে চেষ্টা করা।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

x