কলকাতা: অগ্নিমিত্রা পাল এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দফতরে বসে কাজে মন দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পরামর্শ দিয়েছেন—২৩ সেপ্টেম্বর এমন খবর প্রকাশ করেছিল আনন্দবাজার-সহ একাধিক সংবাদমাধ্যম। সেই খবর নিয়েই এবার প্রকাশ্যে আপত্তি জানাল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর (Chief Minister’s Office)। বৃহস্পতিবার এক্স (X)-এ পোস্ট করে ওই খবরকে সরাসরি ‘Fake News’ বলে দাবি করেছে CMO।
মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সরকারি এক্স হ্যান্ডেলে লেখা হয়েছে, “This is Fake News. Media is suggested to verify the facts before reporting.” অর্থাৎ, খবর প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করার জন্য সংবাদমাধ্যমকে পরামর্শ দিয়েছে CMO।
This is Fake News. Media is suggested to verify the facts before reporting. pic.twitter.com/UtH9WRX8UR
— Chief Minister’s Office, Govt. of West Bengal (@cmowbgov) September 23, 2026
বুধবার নবান্নে মন্ত্রিসভার বৈঠককে কেন্দ্র করে ওই খবর প্রকাশিত হয়েছিল। আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে সরকারি একটি সূত্রকে উদ্ধৃত করে দাবি করা হয়, পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে রাস্তায় নেমে অতিরিক্ত সক্রিয়তা দেখানোর বদলে নিজেদের দফতরের কাজে বেশি মন দিতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
ওই প্রতিবেদনে অগ্নিমিত্রা পালের সাম্প্রতিক একাধিক রাস্তার কর্মসূচি এবং শারদ্বত মুখোপাধ্যায়ের হাসপাতাল পরিদর্শন ও জনসংযোগের প্রসঙ্গও তুলে ধরা হয়েছিল। এমনকি বিধাননগরে শারদ্বতের সঙ্গে রাজারহাট-নিউটাউনের বিধায়ক পীযূষ কানোরিয়ার প্রকাশ্য বাদানুবাদের ঘটনাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
শুধু দুই মন্ত্রীকে নিয়ে ‘পরামর্শ’-এর কথাই নয়, একই প্রতিবেদনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নিয়োগপ্রক্রিয়া এবং বাজেট বরাদ্দ নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের কথা বলা হয়েছিল। সেখানে দাবি করা হয়েছিল, দফতর ধরে নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা মেটানোর পাশাপাশি কলকাতা পুলিশে ২,০০০ এবং রাজ্য পুলিশে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
অন্য একটি সংবাদমাধ্যমও বুধবার অগ্নিমিত্রা পাল ও শারদ্বত মুখোপাধ্যায়কে দফতরে বসে কাজ করার ‘পরামর্শ’ দেওয়ার খবর প্রকাশ করেছিল। ফলে বিষয়টি একাধিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
কিন্তু বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের এক্স পোস্টে সেই খবরের সত্যতা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হল। CMO-র বক্তব্য অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট সংবাদটি ভুয়ো এবং সংবাদ প্রকাশের আগে তথ্য যাচাই করা উচিত ছিল।
তবে মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের পোস্টে কোন নির্দিষ্ট তথ্যকে ভুল বা ভুয়ো বলা হয়েছে, কিংবা নবান্নের বৈঠকে অগ্নিমিত্রা ও শারদ্বতকে আদৌ কোনও নির্দেশ বা পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল কি না—তা বিস্তারিত ভাবে ব্যাখ্যা করা হয়নি। ফলে এখন প্রকাশিত খবর এবং CMO-র খণ্ডনের মধ্যে তৈরি হওয়া এই বিরোধই বিষয়টির কেন্দ্রবিন্দু।
এদিকে, ২৩ সেপ্টেম্বরের মন্ত্রিসভার বৈঠক নিয়ে প্রকাশিত অন্যান্য খবরেও নিয়োগ, প্রশাসনিক কাজের গতি এবং বিভিন্ন দফতরের কার্যক্রম নিয়ে সিদ্ধান্তের কথা উঠে এসেছে। তবে অগ্নিমিত্রা-শারদ্বতকে ‘দফতরে বসে কাজ করার’ পরামর্শ দেওয়ার দাবিটি এখন সরাসরি অস্বীকার করল মুখ্যমন্ত্রীর দফতর।



