নজরবন্দি ব্যুরোঃ ঝাড়গ্রাম জেলা সফরে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১০০ দিনের টাকা নিয়ে হুংকার ছাড়লেন কেন্দ্রের বিরুদ্ধে। বিরসা মুন্ডার জন্মদিনে ঝাড়গ্রামের বেলপাহাড়িতে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। হাতে ছিল একাধিক ইস্যু। আদিবাসী মহলে তৃণমূলের ভাবমূর্তি ফেরাতে এবার ১০০ দিনের টাকাকেই অস্ত্র করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কেন্দ্রের নিজস্ব টাকা নয় বলেই দাবী করলেন মনরেগার টাকাকে। বিজেপির বিরুদ্ধে পথে নামার জন্য আহবান জানালেন তিনি। আন্দোলনে নামলে পাশে থাকার আশ্বাস দিলেন।
আরোও পড়ুনঃ ডেঙ্গি নিয়ে ২১ নভেম্বর বৈঠকে মমতা, জেলাগুলির দিকেও বিশেষ নজর
ঝাড়গ্রামে এবার বৃষ্টি কম হওয়ায় চাষের অসুবিধার কথাকে তুলে ধরে তিনি বলেন আরও বেশি পুকুর কাটতে হবে। ২০২৪ এর শেষের দিকে প্রত্যেকের বাড়িতে খাবার জল পৌঁছে যাবে এমন টাই প্রতিশ্রুতি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি আরোও বলেন, ‘কেন্দ্র আমায় বলে একটাকাও দেব না। তাহলে আমরাও বলতে পারি জিএসটি দেব না। ১০০ দিনের টাকা ফিরিয়ে দাও, নইলে গদি ছেড়ে দাও। গ্রামীণ রাস্তা তৈরির টাকা দিতে হবে। ওরা মানুষকে প্রতারিত করছে’।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছিলাম। এবার কি পায়ে ধরতে হবে? যদি টাকা না দাও, তাহলে গদি ছাড়তে হবে। আমাদের অধিকার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। গ্রামীণ সড়ক তৈরির টাকাও দিচ্ছে না। বীরসা বলতেন, দেশ রানি চালাবে না। আমরা চালাব। আদিবাসী মানুষকে নিজের পায়ে দাঁড়াতে হবে। সারা বাংলাকে বলব নিজেদের অধিকার কেড়ে নিতে হবে।’ কেন্দ্রের থেকে প্রাপ্য টাকা হকের টাকা। সেই টাকা ছিনিয়ে নিতে বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘কেন্দ্র মানুষকে ঠকাচ্ছে, আগে রাজ্য ট্যাক্স সংগ্রহ করত। এখন কেন্দ্র সরকার সব ট্যাক্স সংগ্রহ করে। রাজ্যগুলো টাকা দিচ্ছে না কেন্দ্র। যাই কিনতে যাচ্ছেন জিএসটি দিতে হচ্ছে। আর সেই টাকা দিল্লি চলে যাচ্ছে। উল্টে প্রাপ্য টাকা দিচ্ছে না রাজ্য সরকারকে’।
১০০ দিনের টাকা অথবা গদি যে কোন একটা বেছে নিন, জঙ্গলমহল থেকে কেন্দ্রকে হুংকার মমতার

এরপর তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর জন্য কি কি উন্নয়ন করেছেন তাঁর একটি খতিয়ান দেন। সেখানে তিনি বীরসার মূর্তি স্থাপন থেকে সাঁওতালি ভাষাকে স্বীকৃতি দেওয়া, শিক্ষাশ্রী-কন্যাশ্রীর সুবিধার কথা তুলে ধরেন। বীরসা মুন্ডার জন্মদিনকে ছুটি দিবস ঘোষণা করে দিয়েছেন সে কথাও জানান। তাঁর সংযোজন, ‘এক সময় এই জঙ্গলমহলে মানুষ রাস্তায় হাঁটতে ভয় পেত। ছেলেমেয়েরা পড়তে যেতে পারত না। এখন মানুষ শান্তিতে আছেন। আমরা আদিবাসীদের অধিকার দিয়েছি। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা পড়াশোনার জন্য বঞ্চিত হবে না। আমি টাকা দেব।’



