বিধানসভার স্বাক্ষর জালিয়াতি বিতর্কে নতুন তথ্য সামনে আনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত কয়েকদিন ধরে একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে সিআইডির তৎপরতা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছিল। এবার মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট হল, এই তদন্তের সূত্রপাত হয়েছিল তৃণমূলেরই দুই বিধায়কের অভিযোগ থেকে।
সোমবার সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেন, বিধানসভায় জমা দেওয়া একটি রেজোলিউশনে স্বাক্ষর নিয়ে আপত্তি জানিয়ে অভিযোগ করেছিলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি বিধানসভার প্রশাসনিক স্তরে পৌঁছায়।


মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অভিযোগ পাওয়ার পর বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন এবং সেই সূত্রেই অভিযোগ দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে তদন্তভার দেওয়া হয় সিআইডিকে।
এই মামলার তদন্তে ইতিমধ্যেই সক্রিয় হয়েছে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। তদন্তকারীরা একাধিক তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। তালিকায় রয়েছেন নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষ-সহ আরও কয়েকজন জনপ্রতিনিধি। এমনকি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাসভবনেও গিয়ে নোটিস দিয়ে এসেছে সিআইডি।
তদন্তকারীদের মূল লক্ষ্য, সংশ্লিষ্ট রেজোলিউশনে থাকা স্বাক্ষরগুলি আসল না নকল, তা যাচাই করা। এজন্য বিধায়কদের বক্তব্য, নথিপত্র এবং স্বাক্ষরের নমুনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।


রাজনৈতিক মহলের মতে, অভিযোগকারী এবং অভিযুক্ত—উভয় পক্ষই একই দলের হওয়ায় এই মামলার গুরুত্ব আরও বেড়েছে। কারণ বিষয়টি শুধু রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বিধানসভার সরকারি নথির বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গেও জড়িত।
এদিকে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে চাপানউতোর শুরু হয়েছে। অভিযোগের সত্যতা এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে নজর রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলির পাশাপাশি প্রশাসনিক মহলেও।
সই-জাল বিতর্কের তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন নতুন তথ্য সামনে আসছে। এখন দেখার, সিআইডির তদন্তে শেষ পর্যন্ত কী উঠে আসে এবং এই মামলার রাজনৈতিক অভিঘাত কতটা গভীর হয়।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



