বহিষ্কারের পরই বিস্ফোরক সন্দীপন সাহা! ‘মানুষই তৃণমূলকে সরিয়ে দেবে’

দল থেকে বহিষ্কারের পর নৈতিকতার প্রশ্নে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন সন্দীপন সাহা। স্বাক্ষর বিতর্কে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্তকেই সঠিক বলে দাবি।

বিজ্ঞাপন
নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

দল থেকে বহিষ্কারের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তৃণমূল নেতৃত্বের বিরুদ্ধে সরব হলেন এন্টালির বিধায়ক সন্দীপন সাহা। স্বাক্ষর জালিয়াতি বিতর্কে তাঁর নাম সামনে আসার পর রাজনৈতিক চাপানউতোর যখন চরমে, তখনই প্রকাশ্যে এসে একাধিক বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন তিনি। দলীয় শাস্তি নিয়ে আক্ষেপ নয়, বরং নিজের অবস্থানে অনড় থাকার বার্তাই দিলেন এই বিধায়ক।

সোমবার তৃণমূল কংগ্রেস আনুষ্ঠানিকভাবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

বহিষ্কারের পর প্রতিক্রিয়া দিতে গিয়ে সন্দীপন সাহা বলেন, নৈতিকতার প্রশ্নে যদি তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তবে তাতে তাঁর কোনও আপত্তি নেই। বরং তিনি মনে করেন, যে কারণে অভিযোগ করেছিলেন, তা ছিল সঠিক এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ।

বিধায়ক দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনায় অনিয়ম হয়েছিল বলেই তিনি অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য, জনপ্রতিনিধি হিসেবে কোনও অসঙ্গতি চোখে পড়লে তা তুলে ধরা তাঁর দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।

সোমবার নবান্নে সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানান, বিধানসভার একটি রেজোলিউশনে থাকা স্বাক্ষর নিয়ে প্রথম আপত্তি তুলেছিলেন তৃণমূলের দুই বিধায়ক—ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতেই বিষয়টি বিধানসভার স্পিকারের নজরে আসে।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তীতে বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারির মাধ্যমে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয় এবং সেই মামলার তদন্তভার পায় সিআইডি। বর্তমানে ওই স্বাক্ষর বিতর্ক নিয়েই জোর তদন্ত চলছে।

তবে শুধু স্বাক্ষর বিতর্ক নয়, তৃণমূলের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সন্দীপন। তাঁর দাবি, রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষই আগামী দিনে দলের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। সেই প্রসঙ্গেই তিনি মন্তব্য করেন, মানুষের আস্থা হারালে কোনও রাজনৈতিক দল দীর্ঘদিন টিকে থাকতে পারে না।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বহিষ্কারের পর সন্দীপনের এই মন্তব্য তৃণমূলের অন্দরের অস্বস্তিকে আরও প্রকাশ্যে নিয়ে এল। বিশেষ করে অভিযোগকারী বিধায়ককেই দল থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত ঘিরে আগামী দিনে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বাড়তে পারে।

এখন নজর সিআইডির তদন্তের দিকে। স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগের সত্যতা কতটা প্রমাণিত হয় এবং এই বিতর্কের রাজনৈতিক প্রভাব কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়, সেটাই দেখার।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর