নজরবন্দি ব্যুরোঃ শীতলকুচি কাণ্ডে এবার তদন্তে সিআইডি, ‘সিট’ গঠনের পরেই ডাক তদন্তকারী অফিসারকে।ভোট চলাকালীনই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কথা দিয়েছিলেন শীতল্কুচিতে ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে ৫ জনের মৃত্যুর তদন্ত তিনি করবেন। সঙ্গে এও বলেছিলেন “যত বড়ই মাথা হোক, আমি শেষ দেখে ছাড়ব।” বিপুল আসন জিতে রাজ্যে তৃতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহনের পরদিনই নিজের দেওয়া কথা রাখলেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ রাজ্যে অব্যাহত ভোট পরবর্তী হিংসা, এবার মেদিনীপুরে আক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী।
ঘটনার তদন্তে গঠিত হল সিআইডি নেতৃত্বাধীন ‘সিট’ (স্পেশ্যাল ইনভেস্টিগেশন টিম)। আর দল গঠন করেই কোমর বেঁধে তদন্তে নামল তারা। প্রসঙ্গত রাজ্যে চতুর্থ দফায়, গত ১০ এপ্রিল ভোট ছিল কোচবিহারের শীতলকুচিতে। সেখানকারই জোড়পাটকির ১২৬ নম্বর বুথে সকাল-সকালই ব্যাপক গণ্ডগোল হয়। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিতে মৃত্যু হয় সমিউল মিঁয়া, মনিরুল মিঁয়া, হামিদুল মিঁয়া এবং নূর ইসলাম মিঁয়া নামে চার গ্রামবাসীর। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে তত্কালীন পুলিশ সুপার দেবাশিস ধর রিপোর্টে বলেছিলেন, প্রায় ৩০০ জন গ্রামবাসী কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ঘিরে ফেলেছিল। জওয়ানদের অস্ত্র ধরে টানাটানি করেছিল। শূন্যে গুলি চালিয়েও লাভ হয়নি। তারপরেই গুলি চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। যদিও এই যুক্তি মানতে নারাজ ছিল তৃণমূল। তাই ক্ষমতায় ফিরেই ফের শীতলকুচি ফাইল খুললেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিআইডি সূত্রে খবর, ডিআইজি সিআইডি কল্যাণ মুখোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে সিট গঠন করে শীতলকুচি কাণ্ডের তদন্ত করা হচ্ছে। আর আজই শীতলকুচিকাণ্ডের তদন্তকারী অফিসারকে ভবানী ভবনে তলব করা হয়েছে। তলব করা হয়েছে মাথাভাঙা থানার আইসিকে-ও। প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহারের পুলিশ সুপার পদে ছিলেন কান্নান। কিন্তু নির্বাচনী প্রক্রিয়া চলাকালীনই বিরোধীদের, বিশেষত বিজেপির অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে সরিয়ে দেবাশিস ধরকে দায়িত্বে এনেছিল নির্বাচন কমিশন। এদিকে ইতিমধ্যেই কোচবিহারের পুলিশ সুপার দেবাশিস ধরকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সাসপেন্ডও করা হয়েছে।
শীতলকুচি কাণ্ডে এবার তদন্তে সিআইডি, ‘সিট’ গঠনের পরেই ডাক তদন্তকারী অফিসারকে। শীতলকুচি কাণ্ডের জেরেই এই শাস্তি বলে অনুমান ওয়াকিবহল মহলের। এখন তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এই ঘটনার সূত্র খোঁজার চেষ্টা করবে সিআইডির বিশেষ দল। এখন দেখার এই নিয়ে তদন্তে কি রিপোর্ট দেয় রাজ্যের তদন্তকারী সংস্থা।



