নজরবন্দি ব্যুরোঃ রাজ্যে অব্যাহত ভোট পরবর্তী হিংসা, এবার মেদিনীপুরে আক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক হিংসার ঘটনায় উত্তপ্ত রাজ্য। ইতিমধ্যেই এই নিয়ে রাজ্যের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কেন্দ্র। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী এই হিংসা রুখতে প্রয়োজনে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা বলেছেন। তবে তাতেও যে হিংসা থামানো যাচ্ছে না তার প্রমান ফের মিলল মেদিনীপুরে। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার একাধিক এলাকায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
আরও পড়ুনঃ করোনার দ্বিতীয় ঢেউ সামলাতে এবার সম্পূর্ণ লকডাউনের পথে বিজয়নের কেরালা।
আক্রান্ত বিজেপি কর্মীদের দেখতে এদিন মেদিনীপুরের পাঁচকড়ি এলাকায় আসেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভি মুরলীধরন। পিংলা ও সবংয়ে আক্রান্ত দলীয় কর্মীদের বাড়িতে যাওয়ার কথা ছিল তাঁর। তার আগেই নিজেই হামলার শিকার হন মন্ত্রী। পাঁচকুড়ির সামনে তাঁর কনভয় পৌঁছতেই ,স্থানীয় বাসিন্দারা ইট, বাঁশ, লাঠি নিয়ে হামলা চালায় মন্ত্রীর কনভয়ে। ভেঙেচুড়ে যায় মন্ত্রীর কনভয়ের একটি গাড়ি। ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছে মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা রাজ্য বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। মন্ত্রীর কোনও আঘাত না লাগলেও জখম হয়েছেন তিন জন সাংবাদিক। তাঁদের ভর্তি করা হয়েছে মেদিনীপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। জানা যায়, কোনোরকমে গাড়ি সাইড করে সেখান থেকে বেরিয়ে যায় ভি মুরলীধরনের গাড়ি।
একটি ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। তাতে উঠে এসেছে গোটা হামলার ছবি। ভিডিয়োতে এক ব্যক্তিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ‘পাইলটকে পিছনে দেবেন না, চলো চলো চলো।’ ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে কোতোয়ালি থানার আইসি-সহ উচ্চ পদস্থ কর্তারা। এলাকার পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। জানা যাচ্ছে, ঘটনার সময়েও এলাকায় কোতোয়ালি থানার গাড়ি ছিল। পুলিশের সামনেই কার্যত হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এদিকে এই হামলা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী মুরলি অভিযোগ করেন “তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরা পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালিয়েছে। আমাদের দলীয় কর্মীদের মারধর করছে ওরা। আজ আমি আক্রান্ত কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে যাচ্ছিলাম।”
রাজ্যে অব্যাহত ভোট পরবর্তী হিংসা, এবার মেদিনীপুরে আক্রান্ত কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে এই ঘটনা নিয়ে বিজেপি মুখপাত্র কুনাল ঘোষ জানান “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত নয় তৃণমূল। বিজেপি নিজেদের পরাজয় মেনে নিচতে পারছে না। সাধারণ মানুষকে উস্কানি দিচ্ছে। তারই ফল এই ঘটনা।” এখন দেখার এই রাজনৈতিক হিংসা কবে বন্ধ হয় রাজ্যে।



