ইসলামাবাদের শিয়া মসজিদে ভয়াবহ আত্মঘাতী বিস্ফোরণের পর দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন সুর। পাকিস্তান সরাসরি ভারতের দিকে আঙুল তুললেও, সেই প্রসঙ্গে নীরব থেকে ইসলামাবাদের পাশে থাকার বার্তা দিল চিন। শি জিনপিং প্রশাসনের এই অবস্থানকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে কূটনৈতিক মহল।
রবিবার সকালে চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ইসলামাবাদের হামলা নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, এই বিস্ফোরণ এবং প্রাণহানির ঘটনায় বেজিং স্তম্ভিত। মৃতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি। একইসঙ্গে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের তীব্র বিরোধিতা করে চিন জানায়, পাকিস্তান তাদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে পদক্ষেপ নেবে, বেজিং তা দৃঢ়ভাবে সমর্থন করবে।


তবে হামলার নেপথ্যে ভারতের হাত রয়েছে—পাকিস্তানের এই অভিযোগ নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য করেনি চিন। ইসলামাবাদের দাবি, এই হামলার পরিকল্পনা ও অর্থ জোগানের পিছনে ভারতের ভূমিকা রয়েছে। যদিও এই অভিযোগের পক্ষে কোনও প্রমাণ এখনও দেখাতে পারেনি পাকিস্তান।
এদিকে ইসলামাবাদ মসজিদ বিস্ফোরণ মামলায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাক পুলিশ। তাদের মধ্যে ধরা পড়েছে মূলচক্রীও। পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভির দাবি, ওই মূলচক্রী আফগান নাগরিক এবং নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে যুক্ত। তবু হামলার জন্য ভারতের দিকেই অভিযোগের আঙুল তুলেছে ইসলামাবাদ।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক ইতিমধ্যেই এই অভিযোগ খারিজ করে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। তাদের বক্তব্য, পাকিস্তানের এই দাবি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।


গত কয়েক দিনে পাকিস্তানের একাধিক এলাকায় অশান্তি ছড়িয়েছে। বালোচিস্তানে জঙ্গি দমনে পাক সেনার অভিযানে বহু জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছিল। তার পরেই শুক্রবার ইসলামাবাদের একটি শিয়া মসজিদে জুমার নামাজ চলাকালীন আত্মঘাতী বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণে অন্তত ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছেন বহু মানুষ। ঘটনার দু’দিন পর এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাল চিন







