ছটপুজোয় মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে হবে, অন্ডালে বিজেপির ‘নিদান’ নিয়ে বিতর্ক

পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডালে ছট উৎসবের সময় মাছ-মাংসের দোকান বন্ধের আহ্বান জানাল বিজেপি, তৃণমূলের অভিযোগ— “ব্যক্তি স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ।”

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

ছটপুজোর আবহে পশ্চিম বর্ধমানের অন্ডাল (Andal) এলাকায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক। ছট উৎসবের সময় মাছ ও মাংস বিক্রি বন্ধ রাখার আহ্বান জানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছে বিজেপি। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের এই পদক্ষেপকে ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে অন্ডালের রাজনীতি।

জানা গিয়েছে, রবিবার ও সোমবার— অর্থাৎ ২৬ ও ২৭ অক্টোবর— ছটপুজোর সময়ে অন্ডাল সাউথ বাজারে মাছ, মাংস-সহ সব ধরনের আমিষ খাবারের দোকান বন্ধ রাখার নির্দেশিকা জারি করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বাজারে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়, কারণ নির্দেশটি প্রকাশ্যে পোস্ট করা হয় জেলা বিজেপির অফিসিয়াল প্যাডে

মাংস ব্যবসায়ী অজয় মণ্ডল অভিযোগ করেন, শনিবার কয়েকজন বিজেপি কর্মী তাঁর দোকানে এসে জানান, দু’দিনের জন্য দোকান বন্ধ রাখতে হবে। তিনি বলেন, “আমি বলেছিলাম, ব্যবসা বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। তখন তারা হুমকির সুরে কথা বলেন।” আশপাশের আরও কয়েকজন বিক্রেতাও একই অভিযোগ করেছেন।

ছটপুজোয় মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে হবে, অন্ডালে বিজেপির ‘নিদান’ নিয়ে বিতর্ক
ছটপুজোয় মাছ-মাংসের দোকান বন্ধ রাখতে হবে, অন্ডালে বিজেপির ‘নিদান’ নিয়ে বিতর্ক

অজয়বাবু বিষয়টি মৌখিকভাবে অন্ডাল থানায় জানান। পুলিশ এসে আশ্বাস দেয়, দোকান খোলা বা বন্ধ রাখা সম্পূর্ণ ব্যবসায়ীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। কেউ জোর করলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তৃণমূল বনাম বিজেপি দ্বন্দ্ব। তৃণমূলের যুব জেলা সভাপতি পার্থ দেওয়াসী কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন,
ভারতবর্ষ গণতান্ত্রিক দেশ। কে কী খাবে, কোন পোশাক পরবে, সেটা সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। বিজেপি মানুষের জীবনযাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে চাইছে। পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের রাজনীতি বরদাস্ত করা হবে না।

তৃণমূলের মতে, এই পদক্ষেপ বিজেপির ‘খাদ্য সংস্কার’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা। তারা বলছে, ছটপুজো একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উৎসব, সেটিকে রাজনীতি দিয়ে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে বিজেপি। রানিগঞ্জ মণ্ডল ৪-এর সভাপতি রাখালচন্দ্র ঘোষ বলেন,
এটা কোনও নির্দেশ নয়, শুধুই আবেদন। ছটপুজোর সময় বহু ব্রতীনী ফল-ফুল ও পুজোর সামগ্রী কিনতে বাজারে আসেন। তাঁদের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানাতেই আমরা বিক্রেতাদের দু’দিন দোকান বন্ধ রাখতে অনুরোধ করেছি। কারও ওপর কোনও জোর করা হয়নি।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা চাইনি কেউ কষ্ট পাক। শুধু চেয়েছি পবিত্র পরিবেশ বজায় থাকুক।”

তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে ধর্মীয় আবেগ ঘিরে বিজেপির এই পদক্ষেপ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাজ্যের শিল্পাঞ্চলগুলিতে ছটপুজোতে উত্তর ভারতীয় শ্রমিকদের উপস্থিতি ব্যাপক। তাঁদের মন জিততে বিজেপি এই ধরনের সাংস্কৃতিক পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, তৃণমূল মনে করছে, রাজ্যে ‘খাদ্য সংস্কার’ রাজনীতি চলবে না। পুজো হোক বা ছট, প্রত্যেকে নিজের ধর্ম ও খাদ্যাভ্যাস পালন করতে স্বাধীন— এই বার্তাই দিতে চাইছে তারা।

অন্ডালের এই ঘটনা এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। ছট উৎসব যতই ভক্তিমূলক হোক, রাজনৈতিক ছায়া তাতে ঘন হচ্ছে নিঃসন্দেহে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত