সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর এবার চেনাব নদীতে বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নিয়ে যেতে তৎপর কেন্দ্র সরকার। জম্মু ও কাশ্মীরের রামবান জেলায় প্রস্তাবিত সাওয়ালকোট প্রকল্পের জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার টেন্ডার জারি হয়েছে। কূটনৈতিক টানাপোড়েনের আবহে এই পদক্ষেপকে ভারতের কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা ন্যাশনাল হাইড্রোইলেকট্রিক পাওয়ার কর্পোরেশন (এনএইচপিসি) সাওয়ালকোট হাইড্রোইলেকট্রিক প্রকল্প নির্মাণের জন্য ৫,১২৯ কোটি টাকার টেন্ডার জারি করেছে। চেনাব নদীর উপর নির্মিত হলে এই প্রকল্প থেকে প্রায় ১,৮৫৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে, যা এই অঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


প্রকল্পটি চালু হলে জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডে শক্তি সরবরাহ আরও স্থিতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রের মতে, এই প্রকল্প সিন্ধু জলচুক্তির আওতায় ভারতের জন্য বরাদ্দ জলসম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার বৃহত্তর কৌশলের অংশ। চুক্তি অনুযায়ী, চেনাব নদীর জল ব্যবহারে ভারতের সীমাবদ্ধতা থাকলেও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো নন-কনজাম্পটিভ ব্যবহারের অধিকার রয়েছে। সেই সুযোগকেই কাজে লাগাতে এই প্রকল্পে নতুন গতি দেওয়া হয়েছে।
এনএইচপিসির টেন্ডার অনুযায়ী, বাঁধ, টানেল ও সংশ্লিষ্ট পরিকাঠামো নির্মাণের দরপত্র জমা নেওয়া শুরু হবে ১২ মার্চ থেকে, শেষ হবে ২০ মার্চ। জমা দেওয়া দরপত্র ১৮০ দিন পর্যন্ত বৈধ থাকবে। প্রকল্পের নির্মাণকাল ধরা হয়েছে ৩,২৮৫ দিন, অর্থাৎ কয়েক বছর ধরে চলবে এই বিশাল কাজ।


সাওয়ালকোট প্রকল্প বহুদিন ধরেই পরিকল্পনায় থাকলেও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জলসম্পদের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়ে যাওয়ায় এটিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্প ভারতের জল ও শক্তি নিরাপত্তা জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের ফলে রামবান জেলায় কর্মসংস্থানের বড় সুযোগ তৈরি হবে। নির্মাণ পর্যায়ে বিপুল সংখ্যক মানুষের কাজ মিলবে, পাশাপাশি রাস্তা, যোগাযোগ ও অন্যান্য পরিকাঠামোর উন্নয়ন ঘটবে, যা দীর্ঘমেয়াদে স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের এপ্রিল মাসে পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী হামলায় ২৬ জন নিহত হওয়ার পর পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নেয় ভারত। সেই ঘটনার পর দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ে এবং তারই প্রেক্ষিতে সিন্ধু জলচুক্তি স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় নয়াদিল্লি।
১৯৬০ সালের সিন্ধু জলচুক্তি অনুযায়ী, পূর্ব দিকের নদী—রবি, বিয়াস ও সুতলজ—ভারতের নিয়ন্ত্রণে। অন্যদিকে পশ্চিম দিকের নদী—সিন্ধু, ঝিলম ও চেনাবের অধিকাংশ জল ব্যবহারের অধিকার পাকিস্তানের হলেও সীমিত ব্যবহারের অধিকার রয়েছে ভারতের। সাওয়ালকোট প্রকল্পকে সেই অধিকার প্রয়োগের বড় পদক্ষেপ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে
Google News এবং Google Discover-এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।



