Chandrayaan-4: এবার চাঁদের মাটি পৃথিবীতে আনবে ভারত, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণস্থল চূড়ান্ত করল ISRO

চাঁদের দক্ষিণ মেরুতেই আবার নজর ভারতের। মঁস মুটোঁ অঞ্চলে সম্ভাব্য অবতরণস্থল চিহ্নিত করে চাঁদের মাটি ফিরিয়ে আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে চন্দ্রযান-৪।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

চাঁদের দক্ষিণ মেরুকে ঘিরে যে বৈজ্ঞানিক দৌড় এখন গোটা বিশ্বের নজরে, তার কেন্দ্রে আবারও ভারত। চাঁদের মাটি সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য নিয়ে Indian Space Research Organisation (ISRO) এগিয়ে চলেছে Chandrayaan-4 অভিযানে। সূত্রের খবর, এই মিশনের জন্য দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি একাধিক সম্ভাব্য অবতরণস্থল ইতিমধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে—যার মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে চাঁদের সর্বোচ্চ পর্বত অঞ্চল Mons Mouton

চাঁদের দক্ষিণ মেরু নিয়ে আজকের বৈশ্বিক আগ্রহের সূচনা কিন্তু ভারতের হাত ধরেই। প্রায় দু’দশক আগে Chandrayaan-1 এই অঞ্চলের বৈজ্ঞানিক গুরুত্ব প্রথমবার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরে। সেই ধারাবাহিকতায় এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে যেতে চাইছে ভারত—শুধু অবতরণ নয়, সরাসরি চাঁদের মাটি সংগ্রহ করে তা নিরাপদে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে।

ইসরো সূত্রে জানা যাচ্ছে, দক্ষিণ মেরুর কাছাকাছি যেসব অঞ্চল খতিয়ে দেখা হচ্ছে, তার মধ্যে মঁস মুটোঁ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এই অঞ্চলটি ভূতাত্ত্বিক দিক থেকে যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই রোবোটিক অবতরণের জন্য তুলনামূলকভাবে অনুকূল বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। আগের অভিজ্ঞতা—বিশেষ করে শিবশক্তি পয়েন্টে সফল অবতরণের—ভিত্তিতেই এবার আরও নির্ভুল ও ঝুঁকিহীন ল্যান্ডিংয়ের দিকে এগোচ্ছে সংস্থা।

এই নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বড় ভূমিকা নিচ্ছে Chandrayaan-2 Orbiter। তার তোলা অতিস্পষ্ট ছবির সাহায্যে বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে ভূমির ঢাল, পাথরের ঘনত্ব, সূর্যালোকের প্রাপ্যতা এবং সম্ভাব্য বিপজ্জনক অঞ্চল বিশ্লেষণ করছেন। লক্ষ্য একটাই—এমন একটি জায়গা বেছে নেওয়া, যেখানে নিরাপদ অবতরণ সম্ভব হবে এবং একই সঙ্গে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের সুযোগ থাকবে সর্বাধিক।

চাঁদের দক্ষিণ মেরু এখন বিশ্বের মহাকাশ বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান অঞ্চলগুলির একটি। এখানকার স্থায়ী ছায়াচ্ছন্ন গহ্বরগুলিতে জল বা বরফ থাকার সম্ভাবনা প্রবল। ভবিষ্যতে চাঁদে মানুষের উপস্থিতি, জ্বালানি উৎপাদন বা গভীর মহাকাশ অভিযানের ক্ষেত্রে এই জলসম্পদ হতে পারে ‘গেমচেঞ্জার’।

Chandrayaan-4 : আবার দক্ষিণ মেরুতেই নজর! চাঁদের মাটি পৃথিবীতে আনতে অবতরণস্থল চূড়ান্ত করল ভারত
Chandrayaan-4: এবার চাঁদের মাটি পৃথিবীতে আনবে ভারত, চাঁদের দক্ষিণ মেরুতে অবতরণস্থল চূড়ান্ত করল ISRO

ভারতের সঙ্গে দক্ষিণ মেরুর সম্পর্কও দীর্ঘদিনের। ২০০৮ সালে চন্দ্রযান-১-এর মুন ইমপ্যাক্ট প্রোব এই অঞ্চলের কাছাকাছি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাঠিয়েছিল। ২০১৯ সালে Chandrayaan-2 শেষ মুহূর্তে অবতরণে ব্যর্থ হলেও, ২০২৩ সালে Chandrayaan-3 ইতিহাস গড়ে শিবশক্তি পয়েন্টে সফল নরম অবতরণ করে। এর ফলেই দক্ষিণ মেরুর এত কাছাকাছি প্রথম সফল অবতরণকারী দেশ হিসেবে নাম লেখায় ভারত।

চন্দ্রযান-৪-এর ক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ আরও বড়। এটি হবে ভারতের প্রথম ‘স্যাম্পল রিটার্ন’ মিশন। অবতরণের পর চাঁদের মাটি সংগ্রহ, তা সিল করে সংরক্ষণ, চাঁদের পৃষ্ঠ থেকে উৎক্ষেপণ, কক্ষপথে ডকিং এবং শেষে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন—প্রতিটি ধাপই অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির পরীক্ষা।

এই অভিযানে দুটি এলভিএম-৩ রকেট ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে। পৃথিবীর কক্ষপথেই মহাকাশযানের বিভিন্ন অংশ জুড়ে দিয়ে তারপর সেটিকে চাঁদের পথে পাঠানো হবে। চন্দ্রযান-৩ যে নির্ভুল অবতরণ ও রোবোটিক দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছে, চন্দ্রযান-৪ সেই সক্ষমতাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলেই আশা।

২০২৮ সালের আশেপাশে এই মিশনের উৎক্ষেপণ হতে পারে। তার পরেই জাপানের সঙ্গে যৌথভাবে চন্দ্রযান-৫ বা লুপেক্স অভিযানে দক্ষিণ মেরুর জলবরফ আরও গভীরভাবে অনুসন্ধানের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রায় বিশ বছর আগে চন্দ্রযান-১ যেমন চাঁদকে দেখার দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছিল, চন্দ্রযান-৪ তেমনই আগামী দিনের চন্দ্র অভিযানের নতুন রূপরেখা তৈরি করতে চলেছে।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহুর্তে। আমাদের ফলো করুন
Google News Google News

সদ্য প্রকাশিত