টলিউডের বর্ষীয়ান অভিনেতা চন্দন সেন আবারও প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে শুধু শিল্পী নয়, সমাজসেবক বললেও ভুল হবে না। টেলিসম্মান অ্যাওয়ার্ডে প্রাপ্ত এক লক্ষ টাকার চন্দন সেন সরকারি সাম্মানিক দান করার সিদ্ধান্ত তাঁর মানবিকতার দৃষ্টান্ত। এই দানের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিল্পী মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন তিনি।
চন্দন সেন জানান, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে সম্মানিত না করলে এই সাম্মানিক জনকল্যাণে ব্যয় করার সুযোগই পেতেন না। আনন্দবাজার ডট কম-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী সম্মানিত করলেন বলেই সাম্মানিক দানের সুযোগ পেলাম। এটাই আমার কাছে গর্বের।”
শনিবার রাতেই টলিউডে তোলপাড় পড়ে যায় তাঁর সিদ্ধান্তে। ক্যানসার আক্রান্ত শিশুদের একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে কাজ করা একটি প্রতিষ্ঠান, একটি সমাজসেবামূলক সংগঠন এবং আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদমঞ্চ—এই চারটি ক্ষেত্রেই তিনি দান করেছেন পুরো সাম্মানিকের অর্থ।
মুখ্যমন্ত্রী সম্মানিত করায় সাম্মানিক দানের সুযোগ পেলাম, বললেন চন্দন সেন
চন্দন সেন সরকারি সাম্মানিক দান নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, বিশেষত আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদমঞ্চে অর্থ দেওয়ার সাহসিকতা নিয়ে। কারণ, এই ঘটনার প্রতিবাদ করে বহু শিল্পীই সরকার বিরাগভাজন হয়েছেন। চন্দনের কাছে প্রশ্ন ছিল—এতটা ঝুঁকি নিয়েও সরকারি দেওয়া অর্থ সেখানে দান করার সাহস পেলেন কীভাবে?
তিনি স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে হেসে উত্তর দেন, “এর আগে যখন একই সম্মান পেয়েছিলাম, তখন উত্তরবঙ্গের চা-বাগানের শ্রমিকদের দুঃসময় চলছিল। তখনও দান করেছি। এবারও করলাম।” তিনি আরও বলেন, “আমি প্রায় প্রতিদিন পথে নেমে আরজি কর-কাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়েছি। এর ফলে সরকারি হলে আমার দল নাটক মঞ্চস্থ করতে পারে না।’’
অথচ সেই সরকারই তাঁকে সম্মান দিল—এই প্রসঙ্গে চন্দনের জবাব, “মুখ্যমন্ত্রী হয়তো মনে করেছেন আমাকে সম্মান দেওয়া যেতে পারে। তাই পেয়েছি।”
চন্দন সেন নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারের সঙ্গে লড়ছেন। চিকিৎসার খরচও কম নয়। তাঁর নাট্যদল ‘অশোকনগর নাট্য আনন্দ’-এরও আর্থিক প্রয়োজন রয়েছে। তা সত্ত্বেও নিজের প্রয়োজনের জন্য সরকারি সাম্মানিক ব্যবহার না করে জনগণের জন্য ফিরিয়ে দিলেন পুরো অর্থ।
তিনি বলেন, “সরকারি সম্মাননার অর্থ জনগণের। আমার কেমো চলছে ওঁদের টাকায়। আমার অনুরাগীরাই তহবিল গড়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। তাঁদের প্রতি কোনও দায়বদ্ধতা নেই?” তাই জনগণের অর্থ জনগণকেই ফিরিয়ে দেওয়াটাই তাঁর কাছে নৈতিক কর্তব্য।
চন্দন সেন সরকারি সাম্মানিক দান তাঁর মানবিকতা, দায়িত্ববোধ এবং শিল্পীর সামাজিক ভূমিকার এক বাস্তব উদাহরণ। কঠিন সময়েও নিজের অসুস্থতা ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই তাঁকে আরও শ্রদ্ধার আসনে প্রতিষ্ঠা করেছে।



