‘অভিমান’ ঘিরে বিতর্ক! ক্ষমতার জোরে প্রসেনজিতের বিরুদ্ধে আইডিয়া আত্মসাতের অভিযোগ তুললেন পরিচালক সুমন ঘোষ

‘অভিমান’ ছবির ট্রেলার প্রকাশের পর অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে গল্প ও চরিত্রের ভাবনা আত্মসাতের অভিযোগ তুললেন পরিচালক সুমন ঘোষ। খোলা চিঠিতে উঠল নৈতিকতার প্রশ্ন।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বাংলা চলচ্চিত্র জগতে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত। অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের আসন্ন ছবি ‘অভিমান’-এর ট্রেলার প্রকাশ্যে আসতেই গুরুতর অভিযোগ তুললেন পরিচালক সুমন ঘোষ। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে যে গল্প ও চরিত্রের ভাবনা নিয়ে প্রসেনজিতের সঙ্গে আলোচনা চলছিল, সেই ধারণার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অংশ নাকি দেখা যাচ্ছে নতুন ছবির ট্রেলার ও টিজারে।

শুক্রবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেন সুমন ঘোষ। সেখানে তিনি শিল্পের নৈতিকতা, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং সৃজনশীলতার স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলেছেন। পরিচালকের বক্তব্য, গত আড়াই বছর ধরে তিনি ‘স্টার’ নামে একটি ছবির চিত্রনাট্য নিয়ে কাজ করছিলেন এবং সেই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে শুরু থেকেই প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়কে ভেবেছিলেন।

চিঠিতে সুমন জানান, এই সময়ের মধ্যে অভিনেতার সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে। চরিত্রটির বিভিন্ন বয়স, মানসিক পরিবর্তন এবং জীবনের উত্থান-পতন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়েছিল। এমনকি প্রস্তুতির অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক কিছু চলচ্চিত্র দেখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি তাঁর।

পরিচালকের অভিযোগ, সম্প্রতি মুক্তি পাওয়া ‘অভিমান’-এর টিজার ও ট্রেলারে এমন কিছু উপাদান দেখা গিয়েছে যা তাঁর পরিকল্পিত ছবির সঙ্গে বিস্ময়করভাবে মিলে যায়। একজন জনপ্রিয় সুপারস্টারের উত্থান-পতন, হঠাৎ জনসমক্ষে থেকে হারিয়ে যাওয়া, বার্ধক্যজনিত শারীরিক দুর্বলতা, হুইলচেয়ারে বসা চরিত্র এবং বিশ্বস্ত ম্যানেজারের উপস্থিতির মতো একাধিক বিষয় তিনি উল্লেখ করেছেন।

সুমন ঘোষের দাবি, চিত্রনাট্য সম্পূর্ণ আলাদা হলেও চরিত্র নির্মাণ এবং উপস্থাপনার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। তাঁর কথায়, যদি ঘটনাগুলি নিছক কাকতালীয়ও হয়, তাহলেও পূর্ব পরিচিত স্ক্রিপ্টের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত ছিল।

খোলা চিঠিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনও সাড়া পাননি। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই তাঁর হতাশা আরও বেড়েছে বলে জানিয়েছেন পরিচালক। একই সঙ্গে তিনি বাংলা চলচ্চিত্র জগতের প্রবীণ ও সম্মানিত ব্যক্তিত্বদের উদাহরণ টেনে শিল্পের নৈতিক মূল্যবোধের প্রসঙ্গও উত্থাপন করেছেন।

তবে বিতর্কের মধ্যেও আইনি পথে হাঁটার ইচ্ছা নেই বলেই স্পষ্ট করেছেন সুমন ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, এই প্রশ্ন কোনও কপিরাইট মামলা বা আইনি লড়াইয়ের নয়, বরং শিল্পচর্চার ক্ষেত্রে বিশ্বাস, সততা এবং নৈতিকতার।

চিঠির শেষাংশে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিষ্ঠিত শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করতে গিয়ে যদি এমন অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হয়, তাহলে নতুন প্রজন্মের নির্মাতাদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হতে পারে। শিল্পের মূল ভিত্তি যেন সৃজনশীলতা ও সততা থাকে, সেই প্রত্যাশাই ব্যক্ত করেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে চলচ্চিত্র মহলে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে এই বিষয়ে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে আসেনি।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

বিজ্ঞাপন

আরও খবর