পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়তে শুরু করেছে ভারতের জ্বালানি বাজারে। রান্নার গ্যাসের সম্ভাব্য সঙ্কটের আশঙ্কায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করে রান্নার গ্যাসকে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এর লক্ষ্য, দেশে LPG সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক থাকে এবং বাজারে কোনও কৃত্রিম সঙ্কট তৈরি না হয়।
কেন্দ্র জানিয়েছে, রান্নার গ্যাসের উৎপাদন ও সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর করা হয়েছে Essential Commodities Act, 1955। এই আইনের মাধ্যমে সরকার প্রয়োজনীয় পণ্যের উৎপাদন, সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।


অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন কী?
এই আইনের আওতায় সরকার খাদ্যশস্য, জ্বালানি, সার, ওষুধসহ দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ ও মজুত নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। কোনও সঙ্কট বা ঘাটতির সময় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হলে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে।
এই আইনের মাধ্যমে সরকার—
-
উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দিতে পারে
-
মজুতদারি ও কালোবাজারি রুখতে ব্যবস্থা নিতে পারে
-
সরবরাহ ও দাম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ করতে পারে
মূল লক্ষ্য হল সাধারণ মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় পণ্য সহজে পৌঁছে দেওয়া।
LPG সরবরাহে নতুন অগ্রাধিকার
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশে উৎপাদিত প্রাকৃতিক গ্যাস প্রথমে পাঠানো হবে LPG উৎপাদনকারী সংস্থাগুলির কাছে। অর্থাৎ এখন থেকে Liquefied Petroleum Gas উৎপাদনের ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করতে পারবে LPG প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলিও। সাধারণত এই গ্যাসের বড় অংশ ব্যবহার হয় Compressed Natural Gas (CNG) এবং পাইপড গ্যাস পরিষেবায়।
কেন এই সিদ্ধান্ত
বর্তমানে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে Strait of Hormuz দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হয়েছে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহণ হয়।
ভারতের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও বড়, কারণ দেশের মোট LPG চাহিদার প্রায় ৮০–৮৫ শতাংশ আমদানির উপর নির্ভরশীল। এর বড় অংশই আসে Saudi Arabia-সহ পশ্চিম এশিয়ার দেশগুলি থেকে।
একই সঙ্গে ভারতের আমদানি করা Liquefied Natural Gas (LNG)-এর প্রায় ৬০ শতাংশই হরমুজ় প্রণালী দিয়ে আসে। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগার আশঙ্কা থাকে।
কেন্দ্রের লক্ষ্য কী
এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার চাইছে, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে রান্নার গ্যাসের জোগান স্থিতিশীল রাখতে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইনের আওতায় এনে মজুতদারি বা কালোবাজারির মতো পরিস্থিতি রোধ করাই মূল উদ্দেশ্য।









