নজরবন্দি ব্যুরো: অবশেষে এথিক্স কমিটির সুপারিশকেই মান্যতা দেওয়া হল। শুক্রবার ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন বিতর্কে তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে লোকসভা সংসদ থেকে বহিষ্কার করা হল। এদিন লোকসভায় এথিক্স কমিটির রিপোর্ট পেশ করা হয়। ধনি ভোটে জয়ী হয় এই রিপোর্ট। আজকের এই ঘটনাটিকে লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের জন্য বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বিজেপির প্রতিহিংসার শিকার মহুয়া, সর্বোতভাবে পাশে থাকার বার্তা মমতার
লোকসভার এথিক্স কমিটির প্রধান তথা বিজেপি সাংসদ বিজয় সোনকার শুক্রবার দুপুর ১২ টায় কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে রিপোর্ট পেশ করেন, যেটি ছিল ৫৫৭ পাতার। দিনভর আলোচনা করা হয়। সংসদে ভোটাভুটি হলে এথিক্স কমিটির রিপোর্ট ধ্বনি ভোটে জয়ী হয়। এরপর লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা মহুয়া মৈত্রকে বহিষ্কার করেন। এদিন তৃণমূলের দুই সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এই রিপোর্টকে অগ্রহণযোগ্য বলে দাবি করেন। মহুয়ার পাশে দাঁড়ান কংগ্রেস সাংসদ অধীর চৌধুরীও।

বিরোধী দলের তরফে মহুয়াকে বলতে দেওয়ার সুযোগ দাবি করা হয়। কিন্তু অভিযোগ, মহুয়া মৈত্রের কোনও কথা না শুনেই এক তরফা সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এদিন দীর্ঘ আলোচনার পর এথিক্স কমিটির সুপারিশ মেনে এবং সাংসদদের সম্মতিতেই মহুয়া মৈত্রের সাংসদ পদ খারিজ করে দেওয়া হয়। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, ‘এমন কোনও বিষয় মেনে নেওয়া হবে না যাতে সংসদের মানহানি হবে। প্রয়োজনে অনেক কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়।’

‘ঘুষ নিয়ে প্রশ্ন’ বিতর্কে বিগত কয়েকমাস ধরেই বিপাকে মহুয়া মৈত্র। এথিক্স কমিটি তদন্তের পর তাঁর সাংসদ পদ খারিজের সুপারিশ দেয়। মহুয়াার বিরুদ্ধে অভিযোগ, কসভার পোর্টালে প্রত্যেক সাংসদের যে আলাদা লগ-ইন ও পাসওয়ার্ড থাকে সেগুলি শেয়ার করেছিলেন মহুয়া। এরপরই দেশের বাইরে থেকে পোর্টালে লগইন করা হয়। রিপোর্টেও এর উল্লেখ রয়েছে। লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর ক্ষোভে ফেটে পড়েন সাংসদ মহুয়া মৈত্র। তিনি বলেন, ‘লোকসভার এথিক্স কমিটিতে ‘এথিক্স’ বলে কিছু অবশিষ্ট নেই। তারা সব নিয়ম ভেঙে ফেলেছে। এর শেষ দেখে ছাড়ব।’
এথিক্স কমিটির সুপারিশকেই মান্যতা, সংসদ থেকে বহিষ্কৃত TMC সাংসদ মহুয়া মৈত্র

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্রের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই মুহূর্তে উত্তরবঙ্গ সফরে রয়েছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই এই ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ‘রাজনৈতিক ভাবে লড়তে না পেরে চক্রান্ত করছে বিজেপি। কয়েকদিন পর নির্বাচন সেখানে লড়ে নিত। ভোটের কয়েকমাস বাকি থাকতে এমন আচরণ কেন?’ মুখ্যমন্ত্রী আরও জানান, তৃণমূল সবরকমভাবে মহুয়ার পাশে রয়েছে।



