নজরবন্দি ব্যুরো: মুর্শিদাবাদ জুড়ে ‘সৌমিক হঠাও’ ডাক তৃণমূলের! লোকসভা ভোটে মুর্শিদাবাদ জেলায় তৃণমূল কংগ্রেস ঘুরে দুরন্তভাবে দাঁড়িয়েছে। পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে একটি আসন না থাকা জেলায় দুটি আসন ছিনিয়ে নিয়েছে ঘাসফুল শিবির। কিন্তু লোকসভার পর জেলা পর্যবেক্ষক পদ তুলে দিয়েছে শাসকদল। এই পরিস্থিতিতে মুর্শিদাবাদে তৃণমূলের ঘরোয়া কাজিয়া এখন রাস্তায় নেমে পড়েছে। যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলের অনেকেই তৃণমূলের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোর ও তাঁর টিমকে কাঠগড়ায় তুলছেন। জেলার একাধিক ব্লকে নিচু তলার ক্ষোভের কারণ সৌমিক হোসেন।
আরও পড়ুনঃ থমথমে সবং, তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে হামলা করল কারা?


মুর্শিদাবাদ জুড়ে ‘সৌমিক হঠাও’ ডাক তৃণমূলের! মান্নান হোসেনের পুত্র সৌমিক এখন জেলার কোঅর্ডিনেটর। শুক্রবার মুর্শিদাবাদের ইসলামপুরে তাঁর বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিলেন কয়েকশো কর্মী। তাঁদের দাবি একটাই, ‘সৌমিক হঠাও।’বিক্ষুব্ধ তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, ওঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ পাহাড়সম। রানিনগরে এক নম্বর ব্লকের সভাপতিকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বিনা কারণে। যাঁকে সভাপতি করা হয়েছে তাঁকে টাকার বিনিময়ে ওই পদে বসানো হয়েছে। সৌমিক যদিও সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ডোমকল পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যানের বক্তব্য, যারা এই অভিযোগ তুলছে তারা কংগ্রেস ও অন্য বিরোধী দলের সঙ্গে চক্রান্ত করে তৃণমূলের মধ্যে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এদিকে পাল্টা রানিনগরের তৃণমূল নেতা নারায়ণচন্দ্র দাস বলেন, ‘রানিনগর এখন তৃণমূল কংগ্রেসের সাজানো বাগান। এখানে যদি কেউ বাইরে থেকে এসে নিজের সিদ্ধান্ত মতো কাজ করার চেষ্টা করেন, তাহলে আমরা তা কোনও ভাবেই মানব না। এমনকি জেলা এবং রাজ্য নেতৃত্ব যদি এক্ষেত্রে পদক্ষেপ না করে তাহলে আমরা ৬টি অঞ্চলের হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী একত্রিত হয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হব।’ তৃণমূলের অন্দরের খবর, জেলা সংগঠনে পর্যবেক্ষক তুলে দিয়ে কোঅর্ডিনেটর নিয়োগের ভাবনা পিকে বাহিনীর কাজ।
এর জেরেই ঘরোয়া কাজিয়া মাথাচাড়া দিয়েছে মুর্শিদাবাদে। দলের অনেকে বলছেন, শুভেন্দুবাবু যে ভাবে জেলা ঘুরে লোকসভা ভোটের জন্য দলকে আগে থেকে প্রস্তুত করেছিলেন এখন সেসব কার্যত উবে গিয়েছে। মুর্শিদাবাদ জেলার রাজনীতিতে সৌমিক হোসেন পরিচিতি যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ হিসেবে। ডোমকল পুরসভার চেয়ারম্যান থাকার সময়েও সৌমিক হোসেনের বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ বিদ্ধ হতে হয়েছে। এরপর সৌমিককে চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়েও দেওয়া হয়। সাংগঠনিক দায়িত্ব আসার পরেও সৌমিকের বিরুদ্ধে দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভ অব্যাহত।









