নজরবন্দি ব্যুরোঃ অবশেষে বেসরকারিকরণের পথে হাঁটতে চলেছে কলকাতা পোর্ট হসপিটাল (সেন্টিনারি হসপিটাল)-১৯৭০ সালে এই হসপিটালটি প্রতিষ্ঠিত হয়! কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের অধীনস্থ সমস্ত শ্রেণীর কর্মীদের ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মীদের এবং তাদের পরিবারের ডিপেন্ডেন্টদের চিকিৎসার উদ্দেশ্যে! এমনকি হসপিটাল নির্মাণের সময় কলকাতা বন্দরের প্রত্যেকটা কর্মী তাদের একদিনের বেতন স্বেচ্ছায় দান করেছিলেন!
বর্তমানে ISO সার্টিফাইড এই হাসপাতালে শয্যা সংখ্যা ১০৪ টে! আইসিসি ۔ওটি সহ অত্যাধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে।
আরও পড়ুনঃ নিয়োগে বেনিয়মের অভিযোগ, চাকরি বাতিল করল হাইকোর্ট


আচমকা বন্দর কর্তৃপক্ষ ও কেন্দ্রীয় সরকার সিদ্ধান্ত নেয় এটাকে বেসরকারিকরণ করা হবে (PPP Model)। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত চিকিৎসক, নার্স,কন্টাক্ট চুয়ালনার্স,স্বাস্থ্যকর্মী ও নন-টেকনিক্যাল স্টাফেরা! এদের প্রত্যেকেই চাকরির অনিশ্চিয়তায় নিয়ে ভুগছে ! এবং প্রত্যেকটা কর্মী , যারা পেনশনভোগী ও পরিবারের যারা তাদের উপর নির্ভরশীল প্রত্যেকেই চিকিৎসার অনিশ্চয়তানিয়েও ভুগছে। হসপিটাল বেসরকারিকরণ হলে তাদের জন্য কতটা সহজলভ্য হবে অথবা চিকিৎসাসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধাগুলো আর পাওয়া যাবে কিনা সেই নিয়ে তাদের কপালে গভীর চিন্তার ভাঁজ পড়েছে ! আগামী জুন মাসের ৬ তারিখ টেন্ডার ওপেন হওয়ার কথা ।

এরই প্রতিবাদে কলকাতা বন্দর হসপিটালের প্রত্যেকটা এমপ্লয়ি গভীর উদ্বেগে পড়ে যায়।
এবং তাদের মধ্যে ক্ষোভদানা বাঁধতে শুরু করে। গত ৩০ শে মে বন্দর হসপিটালের মেন গেটের বাইরে তৃণমূল কংগ্রেস(INTTUC) ,কংগ্রেস (INTUC),ও বামফ্রন্টের (CITU) তিনটে শ্রমিক সংগঠন মিলিত ভাবে পোর্ট হসপিটাল বেসরকারিকরণের প্রতিবাদে প্রতিবাদ সভা করেক। উক্ত সভায় বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের উপস্থিতি ছিলনা ! এই নিয়ে আন্দোলনরত হাসপাতাল কর্মীদের গলায় ক্ষোভ শোনা যায়। তিনটে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্ব মিলিতভাবে অভিযোগ করেন কলকাতা বন্দরের এই মুহূর্তে যা সম্পত্তি আছে তাতে যদি কলকাতা বন্দরের আয় বন্ধ হয়ে যায় তাতেও আগামী কুড়ি বছর ধরে সমস্ত কর্মীদের বন্দর কতৃপক্ষ বেতন দিতে সক্ষম।

আইএনটিটিইউসি পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় ,কলকাতা বন্দর কর্তৃপক্ষের কয়েকশো বিঘা জমি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। বে দখল হয়ে যাচ্ছে । অথচ রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি যখন NDA সরকারের রেল মন্ত্রী ছিলেন তখন বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে ওই পরিত্যক্ত জমি চেয়ে ছিলেন শিল্প গড়তে এবং কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে। বিষয়টি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ি পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু বন্দর কর্তৃপক্ষ রেল মন্ত্রকের কাছে ৩০০ কোটি টাকা চেয়ে বসে এর ফলে জেল কর্তৃপক্ষ পিছু হটে। তাহলে আজ কেন বন্দর হাসপাতালকে বেসরকারিকরণ করা হচ্ছে ?



কংগ্রেস সমর্থিত আই,এন,টি,ইউ,সি-র পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়, নরেন্দ্র মোদি সরকার সব কিছু বিক্রি করতে শুরু করেছে তার কাছে শিল্পপতিদের কাছের জলের দামে রেল, এয়ারপোর্ট ,ইন্সুরেন্স, রাষ্ট্রায়ত্ত লাভজনক সংস্থা সবকিছুই জলের দামে বিক্রি করে দিচ্ছে। এবার নজর পড়েছে হাসপাতালের দিকে। হসপিটাল বেসরকারিকরণ হলে সাধারণ চাকরিজীবীদের পক্ষে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যয় করে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে এটা বুঝতে হবে।

অবশেষে বেসরকারিকরণের পথে হাঁটতে চলেছে কলকাতা পোর্ট হসপিটাল
সিটুর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয় কিছুতেই হসপিটাল বেসরকারিকরণ করা চলবে না প্রয়োজন হলে এই আন্দোলন আরও বৃহত্তর আকার ধারণ করবে। আগামী দিন কলকাতা বন্দরের প্রধান কার্যালয় স্ট্যান্ড রোড পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া হবে। সেদিন সমস্ত কলকাতাকে স্তব্ধ করে দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, এদিনের প্রতিবাদ সভায় বহু দূরদূরান্ত থেকে আসা বয়স্ক প্রাক্তন কর্মীদের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো।








