দীর্ঘ ১৪ বছরের অপেক্ষার অবসান। অবশেষে আবারও কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান পদে ফিরল এক বাঙালি মহিলা অফিসারের নাম। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে আইপিএস সোমা দাস মিত্র-কে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আনা হয়েছে। আর সেই নিয়োগ ঘিরেই প্রশাসনিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা—কে এই অফিসার, যাঁর হাতে তুলে দেওয়া হল শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা দফতরের দায়িত্ব?
কলকাতা পুলিশের ইতিহাসে প্রথম মহিলা গোয়েন্দা প্রধান ছিলেন দময়ন্তী সেন। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে তাঁকে ওই পদ থেকে সরানো হয়, যা সে সময় বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল। তারপর থেকে দীর্ঘদিন এই পদে আর কোনও মহিলাকে দেখা যায়নি। ২০২৬-এর এপ্রিল মাসে সেই শূন্যতা পূরণ করলেন সোমা দাস মিত্র।
হালিশহরের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা সোমা ২০০০ সালের WBPS অফিসার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ২০০৬ সালে আইপিএস পদে উন্নীত হন। কর্মজীবনের বড় অংশই কেটেছে সিআইডিতে, যেখানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে নিজের দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন।
বিশেষ করে নারী পাচার বিরোধী বিভাগে ডিএসপি হিসেবে কাজ করে তিনি প্রশংসা কুড়িয়েছিলেন। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি থেকে গরু পাচার—বহু স্পর্শকাতর মামলায় তাঁর নিখুঁত ‘পেপার ওয়ার্ক’ আদালতে সরকারের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে বলে পুলিশ মহলের দাবি।
সম্প্রতি সন্দেশখালির ঘটনা তদন্তে গঠিত বিশেষ কমিটির নেতৃত্বও দেন তিনি, যা তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতার আরও একটি প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে এই নিয়োগকে ঘিরে যেমন আশার সুর শোনা যাচ্ছে, তেমনই রয়েছে প্রশ্নও। অনেকের মতে, দীর্ঘদিন খালি থাকা পদে একজন দক্ষ অফিসার এলেও, দময়ন্তী সেন-এর মতো প্রভাবশালী নজিরকে ছাপিয়ে যেতে পারবেন কি সোমা—সেই পরীক্ষাই এখন সামনে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, নির্বাচনের আগে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এই বদলি হয়েছে। ফলে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত অবস্থায় দায়িত্ব পেলেও, ভোট পরবর্তী পরিস্থিতিতে তিনি এই পদে বহাল থাকবেন কি না, তা এখনও অনিশ্চিত।
সব মিলিয়ে, কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা শাখায় নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলেও, নজর এখন একটাই—কেমন পারফর্ম করেন সোমা দাস মিত্র, আর কতটা সফলভাবে তিনি সামলাতে পারেন এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।



