ভোটের আগে বড় ধাক্কা বিজেপিতে, তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির ভ্রাতুষ্পৌত্র চন্দ্র বসু

বিধানসভা ভোটের আগে তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির ভ্রাতুষ্পৌত্র চন্দ্র বসু। বিজেপির বিরুদ্ধে ‘বিভাজনের রাজনীতি’র অভিযোগ তুলে বড় বার্তা দিলেন তিনি।

নজরবন্দি ডিজিটাল ডেস্ক

বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর ভ্রাতুষ্পৌত্র চন্দ্র বসু রবিবার আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিলেন। যোগদানের মঞ্চ থেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি অভিযোগ তুললেন, “ওই দল বিভাজনের রাজনীতি করছে, ঘৃণা ছড়াচ্ছে”—এবং স্পষ্ট জানালেন, নেতাজির আদর্শে বিশ্বাস রেখেই তিনি শাসক দলে যোগ দিয়েছেন।

রবিবার বিকেলে রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজ়াদের উপস্থিতিতে তৃণমূলে যোগ দেন চন্দ্র। যোগদানের পরই তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বিজেপির প্রতি গভীর অসন্তোষ। তিনি বলেন, “নেতাজির আদর্শকে সম্মান করে এমন রাজনীতি বিজেপিতে সম্ভব নয়। দেশের ঐক্য রক্ষা করতে হলে বিভেদের রাজনীতির বিরুদ্ধে লড়াই করা জরুরি, আর সেই কারণেই আমি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

ভোটের আগে বড় ধাক্কা বিজেপিতে, তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির ভ্রাতুষ্পৌত্র চন্দ্র বসু
ভোটের আগে বড় ধাক্কা বিজেপিতে, তৃণমূলে যোগ দিলেন নেতাজির ভ্রাতুষ্পৌত্র চন্দ্র বসু

চন্দ্র বসুর রাজনৈতিক যাত্রা নতুন নয়। ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন তিনি এবং ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রার্থীও হন। যদিও সেই নির্বাচনে জয় আসেনি। পরবর্তীতে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কলকাতা দক্ষিণ কেন্দ্র থেকেও লড়েছিলেন, কিন্তু সেখানেও সাফল্য অধরা থাকে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ২০২৩ সালে তিনি দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন। দলত্যাগের পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়—তাঁর পরবর্তী গন্তব্য কোথায়? সেই জল্পনা আরও জোরালো হয় যখন তিনি প্রকাশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাজের প্রশংসা করেন।

সম্প্রতি সমাজমাধ্যমেও নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন চন্দ্র। একটি পোস্টে তিনি লেখেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত তাঁর “ঐতিহাসিক ভুল” ছিল। তিনি আরও জানান, যে কোনও রাজনৈতিক দল যদি ভোটের স্বার্থে মানুষের মধ্যে বিভেদ তৈরি করে, তা তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তৃণমূলে তাঁর যোগদান যে শুধুমাত্র দলবদল নয়, বরং একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা—তা বলাই যায়। ভোটের মুখে এই ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্কে নতুন মাত্রা যোগ করল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

সবচেয়ে আগে সঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে

Google News Google News এবং Google Discover Google Discover -এ নজরবন্দি-কে Follow করে রাখুন।

আরও পড়ুন