নজরবন্দি ব্যুরোঃ চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি-মামলায় বুধবার এসএসসি সচিবকে তীব্র ভৎসনা কলকাতা হাইকোর্টের। দুপুর ৩ টের মধ্যে সমস্ত নথি চাইল আদালত। উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করে তদন্তের আর্জি রাজ্যের। তদন্তের জন্য আরও সময় চাইলেন এসএসসির আইনজীবী কিশোর দত্ত।
আরও পড়ুনঃ নিয়োগে ব্যাপক দুর্নীতি স্কুল সার্ভিস কমিশনের, CBI তদন্তের ইঙ্গিত হাই কোর্টের!
স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী নিয়োগের দুর্নীতিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছিল আদালত। এদিন এসএসসি সচিবকে তীব্র ভৎসনা করে কলকাতা হাইকোর্ট -এর বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় মন্তব্য করেন, “আপনাদের ওপর আমাদের কোনও ভরসা নেই। আপনারা কী তদন্ত করবেন আমরা জানি। রোজই কিছু না কিছু অনিয়ম আসছে। এই মামলায় সিবিআইকে তদন্ত করতে বলব। দুপুর তিনটের মধ্যে আদালতে সমস্ত তথ্য জমা দিতে হবে। নাহলে সিআইএসএফকে বলব বলব আপনাদের অফিসের পুরো দখল নিতে। পুরো কমিশন বরখাস্ত করে দেবো। নিয়োগ নিয়ে এই দুর্নীতি চলতে পারে না”।
বিচারপতি আরও বলেন, “এর পিছনে কে রয়েছে? কেন নিয়োগ করা হয়েছে? কোন পদ্ধতিতে নিয়োগ করা হয়েছে মেমো জানানো হোক? কমিশনের কোনও কর্মীকে বাইরে যেতে দেওয়া হবে না। সিবিআই পাঠিয়ে কম্পিউটারের সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখা হবে। এই সময়ের মধ্যে আঞ্চলিক অফিসের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ করা যাবে না। আদালতের নির্দেশ ছাড়া কোনও কম্পিউটার অপারেট করা যাবে না”।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সাল থেকে ২০১৯ অবধি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় এসএসসি। সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীদের নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিষয়টি আদালত অবধি গড়ায়। মঙ্গলবার চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি-মামলা -র তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে তুলে দেওয়ার কথা জানায় আদালত। হাজিরা দিতে বলা হয় সচিবকে। এসএসসি সচিবের দেওয়া তথ্য সন্তোষজনক না হলে তদন্তের দায়িত্বভার তুলে দেওয়া হতে পারে সিবিআইয়ের ওপর।
প্রসঙ্গত, স্কুলের ১৩ হাজার শূন্যপদে চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগের জন্যে ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশন কে সুপারিশ করেছিল রাজ্য। সেই মতো পরীক্ষা ও ইন্টারভিউ নেয় এসএসসি। পরে তাঁরা প্যানেল প্রকাশ করে। ২০১৯ সালে ওই প্যানেলের মেয়াদ শেষ হয়। কিন্তু অভিযোগ ওঠে যে, প্রকাশিত প্যানেলের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরেও নিয়মবহির্ভূত ভাবে প্রচুর নিয়োগ করেছে কমিশন।
চতুর্থ শ্রেণির কর্মী নিয়োগে দুর্নীতি-মামলা, তদন্তভার যেতে পারে সিবিআইয়ের হাতে

অভিযোগ, এই বেনিয়ম হয়েছে কমিশনের বিভিন্ন আঞ্চলিক অফিসে। বেনিয়মে নিয়োগ প্রাপ্ত ২৫ জনের নিয়োগের তথ্য তুলে ধরে মামলা হয় হাই কোর্টে। মঙ্গলবার মামলাটি ওঠে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের সিঙ্গেল বেঞ্চে। নিয়োগের সুপারিশে প্রচুর বেনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ। আঞ্চলিক অফিসের ওপর কমিশনের নিয়ন্ত্রণ নেই। তা বোঝাই যাচ্ছে। এমনটাই মন্তব্য করেন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।



