লোকসভা নির্বাচনের আগেই দেশজুড়ে সিএএ (CAA) অর্থাৎ, সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করতে চলেছে বিজেপি সরকার! শনিবার তেমনই জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিতে গ্লোবাল বিজনেস সামিটে দাঁড়িয়ে তিনি সাফ বললেন, ‘‘লোকসভা ভোটের আগেই সিএএ (CAA) কার্যকরের বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করা হবে।’’ তাহলে কি আবার নতুন করে তৈরি হবে বিতর্ক? জল্পনা রাজনৈতিক মহলে।
আরও পড়ুন: রাজনৈতিক সন্ন্যাস দেবের? অভিনেতার সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠকে মমতা-অভিষেক
২০১৯ সালে দ্বিতীয়বারের জন্য দেশের ক্ষমতায় এসেই সিএএ (CAA) কার্যকর কথা ঘোষণা করে বিজেপি সরকার। সংসদে পাশ হয় বিলও। কিন্তু মাঝে এতগুলো বছর কেটে গেলেও সেই বিলকে আইনে কার্যকর করতে পারেনি কেন্দ্র সরকার। যার মূল কারণ, বিরোধীতা। দেশের তাবড় তাবড় রাজনৈতিক থেকে শুরু করে বুদ্ধিজীবী প্রত্যেকেই সমালোচনা করেন এই বিলের। পথে নেমে প্রতিবাদ করে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা।

এবার কিন্তু আর অপেক্ষা করতে চাইছে না বিজেপি সরকার। আগামী লোকসভার আগেই সিএএ-কে (CAA) আইন হিসাবে কার্যকর বদ্ধকরিকর কেন্দ্র। এদিন অমিত শাহ বলেন, “কংগ্রেস শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিল একসময়। তাঁরা তা কার্যকরও করেনি আর এখন অন্য কথা বলছে। সিএএ মানে মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া নয়। সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনে একথা একবারও বলা হয়নি। বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আসা নিপীড়িত শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দিতেই এই আইন।”

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (CAA) কী বলে? বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মতো মুসলিম ধর্মাবলম্বী দেশ থেকে যদি সে দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় উৎপীড়নের কারণে ভারতে আশ্রয় নিতে চান তা হলে তা দেবে কেন্দ্র সরকার। কিন্তু এখানেই গন্ডগোল! মুসলিম অধ্যুষিত দেশের সংখ্যালঘু অর্থাৎ, হিন্দু, খ্রিস্টান বা অন্যান্য সম্প্রদায়। তার মধ্যে অবশ্যই মুসলিমরা পড়ছেন না! তাহলে যদি কোনও মুসলিমই সে দেশে যে কোনও রকম সমস্যার সম্মুখীন হয়ে ভারতে আসতে চায় তিনি কি নাগরিকত্ব পাবেন না?
লোকসভার আগেই দেশে CAA কার্যকর করবে BJP সরকার? বড় ইঙ্গিত অমিত শাহের

প্রশ্নটা এখানেই। স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে না। কারণ, তিনি সে দেশের সংখ্যালঘু নন। যে কারণে এই আইনকে স্বতঃপ্রণোদিত একতরফা আইন বলে কটাক্ষ করেন বিরোধীরা। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস এই আইনের তীব্র বিরোধীতা করেছে। বাম সংগঠনগুলির বক্তব্যও এক। এখন লোকসভার আগে সিএএ (CAA) কার্যকর করতে পারে কিনা কেন্দ্র সরকার সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।



