তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা। আর তারপরেই সংসদে আবেগতাড়িত বক্তব্য। রাজনৈতিক জীবন থেকে কি সন্ন্যাস নিতে চলেছেন তিনি? কথা হচ্ছে, অভিনেতা সাংসদ দেবকে (Dev) নিয়ে। সংসদের ভাষণে তিনি বললেন, ‘সংসদে আমার শেষ দিন’। ইন্সটাগ্রামেও লিখলেন সে কথা। ধন্যবাদ জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১০ বছর তাঁকে কাজের সুযোগ করে দেবার জন্য। প্রতিটা বক্তব্যে, পদক্ষেপে ছিল একটা বিদায়ী সুর, অবসরের বার্তা। আর সে কারণেই আজ, শনিবার দেবের (Dev) সাথে আলাদা আলাদা করে বৈঠক করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এমনটাই খবর তৃণমূল সূত্রে।
আরও পড়ুন: সন্দেশখালিতে জারি ১৪৪ ধারা, বন্ধ ইন্টারনেট পরিষেবা
দেবের (Dev) রাজনীতি থেকে সরে আসা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে জল্পনা তুঙ্গে। কী কারণে এই অবসর? কারণ, দেব বরাবর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুরাগী। ‘দিদি’ বলে শুধু সম্বোধনই করেন না, মানেনও বটে। তাঁর অনুরোধেই রাজনীতিতে পদার্পণ। দেবকে (Dev) নিয়ে যথেষ্ট উচ্ছ্বাস দেখান খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। সামনে লোকসভা নির্বাচন। তার আগে তারকা সাংসদের স্বেচ্ছাবসর ভাবাতে বাধ্য নেত্রীকে। আর তাই এই বৈঠক। বরফ কি গলবে মমতা-দেব-অভিষেক সাক্ষাতে?

কয়েকটি বিষয় এর মাঝে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। যার মধ্যে রয়েছে মূলত একটি ভাইরাল অডিও ক্লিপ। সেখানে ঘাটালের প্রাক্তন বিধায়কের গলায় শোনা (অডিও ক্লিপের সত্যতা যাচাই করেনি নজরবন্দি) যাচ্ছে, ‘সাংসদ দেব (Dev) তহবিলের টাকার ওপর ৩০ শতাংশ কাটমানি নেন।’ এরপরই মুখ খোলেন দেব। বলেন, “যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে আমি কাটমানি নিয়েছি তাহলে রাজনীতির পাশাপাশি অভিনয়ও ছেড়ে দেব।”

যদিও শঙ্কর দলুই এ কথা বলেছেন কিনা তা নিয়ে মন্তব্য করতে নারাজ দেব (Dev)। বরং তিনি বলেন, “শঙ্কর দলুই আমার রাজনৈতিক গুরু। তাঁর হাত ধরেই ঘাটাল চিনেছি।” শঙ্করেরও সাফ কথা, “দেব ঘাটালের গর্ব। সাংসদ হিসেবে দেব সব সময় মানুষের পাশে থেকেছেন। বন্যার সময় দেব আসেন। শুধু একবার নয় প্রতিটা বন্যার সময়ে তিনি এলাকায় এসেছেন।” অডিও ক্লিপ নিয়ে শঙ্কর নিশানা করেন বিরোধীদের।
রাজনৈতিক সন্ন্যাস দেবের? অভিনেতার সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠকে মমতা-অভিষেক

অন্যদিকে, রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ দেবের (Dev) রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্তকে কিছুটা অন্যভাবে দেখছেন। সেখানে প্রাধান্য পাচ্ছে ‘মানুষ’ দেব। নানান দুর্নীতিতে তৃণমূলের একাধিক নেতা জেলে গিয়েছেন। কলঙ্ক লেগেছে দলের নামেও। আর সেই দলে থাকতে মানসিকভাবে কিছুটা বিব্রত বোধ করছেন কি দেব? প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। এখন, একমাত্র মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই পারেন হয়তো দেবকে (Dev) ফের ঘাটালের প্রার্থী করতে। নাকি রাজনৈতিক কেরিয়ারকে এখানেই ক্ষান্ত দিতে চান অভিনেতা? উত্তর মা গঙ্গাই জানেন…



